মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

৩০০০ কোটি টাকা লোপাট বাখরাবাদ গ্যাসের এমডি শংকর বাবুর

সাড়ে তিন বছরে ঘুস আর দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি শংকর বাবু ও কোম্পানিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারি কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এমডি শংকর বাবু সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্ত্রী-পুত্র শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নামে। স্ত্রী ও পুত্রের নামে কুমিল্লার কালীরবাজারে […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৩৯

সাড়ে তিন বছরে ঘুস আর দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি শংকর বাবু ও কোম্পানিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারি কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

এমডি শংকর বাবু সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্ত্রী-পুত্র শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নামে। স্ত্রী ও পুত্রের নামে কুমিল্লার কালীরবাজারে কিনেছেন ১৩০ বিঘা জমি। চট্টগ্রাম, ফ্ল্যাট, বাড়ি, মিরসরাইয়ে বাড়ি, মিরসরাই মৌজায় ১৫০ বিঘা জমি। পরিবারের সবাই ধনী তার হাত ধরে। অবৈধ উপায়ে ১৫-২০ হাজার পরিবার, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, ফিলিং স্টেশন মালিকের কাছ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অবৈধ সংযোগ দেওয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে, নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে, অবৈধ সংযোগ দিয়ে এমডি শংকর বাবু গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন।

বিভিন্ন অজুহাতে সংযোগ কেটে দিয়ে ও সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে কুমিল্লার আলেখারচড় বিশ্বরোড সাবুরিয়া সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, মাস্টার সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, রাহাত সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, বুড়িচং খোরশেদ আলম সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এমডি শংকর বাবুর শ্বশুরবাড়ি এলাকা কালিবাজার এলাকা, কুমিল্লা সদর, শংকর পুর, দুর্গাপুর, মনিপুর, করিঅলপাড়া, মোকাম, পাঁচকিতা, কোরাপাই, নিমসার, বুড়িচং কাছারিতলা, মহিনপুর, রামপুর, কুসুমপুর, কামাড়খাড়া গ্রামের ১৫-২০ হাজার পরিবারের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচয় দিতেন এমডি শংকর বাবু। কাউকে কোনো পাত্তাই দিতেন না। সব কিছুই করতেন নিজের ইচ্ছামতো। ঘুসের টাকা পেতেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বোর্ড চেয়ারম্যান পর্যন্ত।

কামাড়খাড়া এলাকায় ঠিকাদার মনির হোসেন বলেন, আমাদের কাছ থেকে এই এমডি সংযোগ দেওয়ার নামে নিয়েছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। সংযোগ দেওয়ার নামে পরে আর সংযোগ দেওয়া হয়নি। গ্রাহকরা আমাকে ধরেন। এমনভাবে কুমিল্লাসহ নোয়াখালী, ফেনী বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়েছেন প্রায় ২০০০ কোটি টাকা।

ঠিকাদার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শংকর বাবু ঘুস ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। যখন খুশি কাউকে সংযোগ দিতেন, যখন খুশি তিনি সংযোগ বন্ধ করে দিতেন। তার ইশারায় চলত কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস অফিস। কেউ তাকে ভয়ে কিছু বলতে পারতো না। তার ইশারা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ত না।

কুমিল্লা বুড়িচং ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বুড়িচং খোরশেদ আলম সিএনজি মালিক মো. খোরশেদ আলম বলেন, শংকর বাবু আমাকে অনেক হয়রানি করেছেন। তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে আমার কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আমি না দিলে আমাকে ২ বছর হয়রানি করেছেন। আমাকে ঘুরতে হয়েছে টেবিলে টেবিলে। ঘুস ছাড়া ফাইল নড়ে না। আড়াই বছর পর আমি সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করে নতুন করে সংযোগ পাই।

কুমিল্লা আমতলী সাবুরিয়া সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, আমার কাছে চেয়েছিল ১৫ কোটি টাকা আমি দিতে না চাইলে আমার সংযোগটি কেটে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় আমার পাম্প। আমাকে হয়রানি করা হয় ৩ বছর ধরে। পরে আমি এমডির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট মামলা দায়ের করেছি। মামলা হাইকোর্টে চলমান।

তিনি বলেন, এমডি শংকর বাবু সব সময় নিজেকে অনেক ক্ষমতাসীন মনে করতেন, কাউকে কোনো পাত্তা দিতেন না।

মনিপুর এলাকার গ্রাহক ইসমাইল হোসেন বলেন, বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার নামে ঠিকাদারের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন শংকর বাবু। এরপরও আমি সংযোগ পাইনি।

কড়িহলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, আমার এলাকায় গ্যাস দেওয়ার কথা বলে, বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের ঠিকাদার আওয়ামী লীগের এক নেতা নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকার মতো কিন্তু গ্যাস সংযোগ দেননি। আমরা আজও ঠিকাদারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। এমন অভিযোগ যেন বাখরাবাদে হাজারে হাজার।

এদিকে বক্তব্য জানতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক এমডি শংকর বাবুর মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান এমডি আনোয়ারুল বলেন, আমি বেশিদিন হয়নি যোগদান করেছি। অনেক অবৈধ সংযোগের অভিযোগ পেয়েছি। কয়েকশ অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। মামলা হয়েছে। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছি।

বছরের পর বছর ফাইল পড়ে থাকার বিষয়ে বর্তমান এমডি বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।