শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

একই গ্রামে চারটি ইটভাটা হুমকিতে জীব বৈচিত্র্য ও ফসলি জমি ইটভাটা বন্ধের দাবী এলাকাবাসীর

রাশিমুল হক রিমন,আমতলী (বরগুনা) জেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এবং তিন ফসলি কৃষি জমিতে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ’শ একর তিন ফসলি জমি এবং পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পরেছে। ইটভাটির কারনে ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে তেমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৩ জানুয়ারী ২০২৫, ২২:৫৫

রাশিমুল হক রিমন,আমতলী (বরগুনা)

জেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এবং তিন ফসলি কৃষি জমিতে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ’শ একর তিন ফসলি জমি এবং পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পরেছে। ইটভাটির কারনে ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে তেমন ফসল হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। দ্রুত ইটভাটি গুলোর কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।ইটভাটি চারটি আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামে। তবে প্রশাসন ওই চারটি ইটভাটিতে অনুমতি দেয়নি বলে দাবী করেছেন। 

বিবিসি ইটভাটির মালিক মোঃ হান্নান মৃধা বলেন, জিকঝ্যাক ইটভাটিতে ইট প্রস্তুত করছি। এখন আর কৃষি জমি ও পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, আমার এ ইটভাটিতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। তারা ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। তবে লোকালয়ে প্রশাসন কিভাবে ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিলো এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি?  

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার রায়বালা গ্রামে ২০১৭ সালে আব্দুল হান্নান মৃধা বিবিসি, ২০১৮ সালে বিবিসি ইটভাটির তিন’শ গজ দুরে শানু হাওলাদার ফাইভস্টার, ২০১৯ সালে ওই দুই ইটভাটির পাশাপাশি মাহবুবুল আলম মৃধা এমএমবি এবং ২০২১ সালে একই স্থানে নুর জামান এডিবি নামের ইঠভাটি নির্মাণ করেছেন। ফসলি জমি নষ্ট করে এ ইটভাটি চারটি গড়ে উঠেছে। ওই ইটভাটি চারটিতে জেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমতি ছাড়াই ইটভাটি চারটি গড়ে তুলেছেন। তবে ইটভাটির মালিকরা দাবী করছেন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি অফিসার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শণ করে অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে সকল দপ্তর পরিদর্শণ করে এমন লোকালয়ে ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিলো এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তারা। আধা কিলোমিটারের মধ্যে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করায় ওই এলাকার অন্তত পাচ’শ একর তিন ফসলি জমি, গাছপালা, জীব বৈচিত্র্য, প্রাণী সম্পদ, খামার,গ্রামীণ সড়ক নষ্ট ও পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। ওই গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পরেছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেন ইটভাটি নির্মাণ করার পরে ওই জমির উর্বরতা হারিয়েছে। জমিতে এখন আর আগের মত ফসল ফলছে না। এছাড়া ওই ইটভাটি চারটির পাঁচ’শ গজের মধ্যে রয়েছে রায়বালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিষকাটা নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, এতিম খানা ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। 

ইট প্রস্তুত ও ভাটি স্থাপন আইনে উল্লেখ আছে, আবাসিক এলাকা, তিন ফসলী কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটি স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু রায়বালা গ্রামে ইটভাটির মালিকরা এই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইটভাটি স্থাপন করেছেন। ওই আইন লঙ্ঘন করে কেউ ইটভাটি স্থাপন করলে তাদের এক বছর অনধিক পাঁচ বছরের জেল অথবা আর্থিক জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই আইনের প্রতিফলন ঘটছে না ওই ইটভাটিগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে জানানোর পরেও তারা অজ্ঞাত কারনে কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ঘনবসতি এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় ওই গ্রামের ইটভাটিগুলো বন্ধে রায়বালা গ্রামের সচেতন নাগরিক দাবী জানিয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বিবিসি, ফাইভস্টার, এডিবি ও এমএমএস ইটভাটির পাশে ঘণ বসতি ঘরবাড়ী, গাছপালা ও তিন ফসলি জমি। ওই ইটভাটিগুলোর পাশেই রায়বালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এতিম খানা ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। চারটি ইটভাটিতে দেদার ইট পোড়ানোর কাজ চলছে।  

রায়বালা গ্রামের কৃষক শাহজাহান আকন বলেন, আধা কিলোমিটারের মধ্যে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করায় ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এখন আর আগের মত জমিতে ফসল ফলছে না। তিনি আরো বলেন, ইটভাটির কারনে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ওই ইটভাটি গুলো বন্ধের দাবী জানান তিনি। 

স্থানীয় বাসিন্দা নাশির সিকদার বলেন, একই গ্রামে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরেছে। কালো ধোয়া এবং ধুলা ময়লায় পরিবেশ দুষিত হয়ে পরেছে। দ্রæত এ ইটভাটি গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানান তিনি। 

রায়বালা গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটিগুলোর কারনে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ’শ একর ফসলি জমি,জীব বৈচিত্র্য, গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হচ্ছে এবং পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই গ্রামের কৃষি জমি ও মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষায় ওই ইটভাটি গুলো বন্ধের দাবী জানাই। 

এমএমএস ইটভাটির পরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলম মৃধা বলেন, সকল আইন কানুন মেনেই ইটভাটি নির্মাণ করেছি। 

রায়বালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েক গজের মধ্যেই তিনটি ইটভাটি রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিয়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  

 কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ জাকির হোসেন বলেন, প্রভাবখাটিয়ে ইটভাটির মালিকরা কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটি নির্মাণ করছেন। এতে এই এলাকার অন্তত পাচ’শ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ওই ইটভাটিগুলো বন্ধের দাবী তাদের।

এডিবি ইটভাটির মালিক মোঃ নুর জামাল বলেন, প্রশাসনের সকল দপ্তরের অনুমতি নিয়েই ইটভাটি নির্মাণ করেছি। প্রশাসন কিভাবে লোকালয়ে ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিলো এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি। 

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার ঈশা ইকবাল বলেন, রায়বালা এলাকার কোন ইটভাটি স্থাপনে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। কৃষি জমিতে ইটভাটি স্থাপন করলে একদিকে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ইটভাটি এলাকার জমির ফসল ও পরিবেশ নষ্ট হয়। 

বরগুনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াত মাহমুদ রকিব বলেন, পরিবেশ নষ্ট হয় এমন জায়গায় ইটভাটি স্থাপন করতে পারবে না। রায়বালা গ্রামে কোন ইটভাটি স্থাপন করার অনুমতি দেয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তিনি আরো বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ওই ইটভাটিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, সরকারী নিয়ম বর্হিভুত কোন ইটভাটি নির্মাণ করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ওই ইটভাটি গুলো পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।