মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

একই গ্রামে চারটি ইটভাটা হুমকিতে জীব বৈচিত্র্য ও ফসলি জমি ইটভাটা বন্ধের দাবী এলাকাবাসীর

রাশিমুল হক রিমন,আমতলী (বরগুনা) জেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এবং তিন ফসলি কৃষি জমিতে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ’শ একর তিন ফসলি জমি এবং পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পরেছে। ইটভাটির কারনে ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে তেমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৩ জানুয়ারী ২০২৫, ২২:৫৫

রাশিমুল হক রিমন,আমতলী (বরগুনা)

জেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এবং তিন ফসলি কৃষি জমিতে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ’শ একর তিন ফসলি জমি এবং পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পরেছে। ইটভাটির কারনে ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে তেমন ফসল হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। দ্রুত ইটভাটি গুলোর কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।ইটভাটি চারটি আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামে। তবে প্রশাসন ওই চারটি ইটভাটিতে অনুমতি দেয়নি বলে দাবী করেছেন। 

বিবিসি ইটভাটির মালিক মোঃ হান্নান মৃধা বলেন, জিকঝ্যাক ইটভাটিতে ইট প্রস্তুত করছি। এখন আর কৃষি জমি ও পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, আমার এ ইটভাটিতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। তারা ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। তবে লোকালয়ে প্রশাসন কিভাবে ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিলো এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি?  

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার রায়বালা গ্রামে ২০১৭ সালে আব্দুল হান্নান মৃধা বিবিসি, ২০১৮ সালে বিবিসি ইটভাটির তিন’শ গজ দুরে শানু হাওলাদার ফাইভস্টার, ২০১৯ সালে ওই দুই ইটভাটির পাশাপাশি মাহবুবুল আলম মৃধা এমএমবি এবং ২০২১ সালে একই স্থানে নুর জামান এডিবি নামের ইঠভাটি নির্মাণ করেছেন। ফসলি জমি নষ্ট করে এ ইটভাটি চারটি গড়ে উঠেছে। ওই ইটভাটি চারটিতে জেলা প্রশাসন, কৃষি অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমতি ছাড়াই ইটভাটি চারটি গড়ে তুলেছেন। তবে ইটভাটির মালিকরা দাবী করছেন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি অফিসার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শণ করে অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে সকল দপ্তর পরিদর্শণ করে এমন লোকালয়ে ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিলো এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তারা। আধা কিলোমিটারের মধ্যে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করায় ওই এলাকার অন্তত পাচ’শ একর তিন ফসলি জমি, গাছপালা, জীব বৈচিত্র্য, প্রাণী সম্পদ, খামার,গ্রামীণ সড়ক নষ্ট ও পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। ওই গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পরেছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেন ইটভাটি নির্মাণ করার পরে ওই জমির উর্বরতা হারিয়েছে। জমিতে এখন আর আগের মত ফসল ফলছে না। এছাড়া ওই ইটভাটি চারটির পাঁচ’শ গজের মধ্যে রয়েছে রায়বালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিষকাটা নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, এতিম খানা ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। 

ইট প্রস্তুত ও ভাটি স্থাপন আইনে উল্লেখ আছে, আবাসিক এলাকা, তিন ফসলী কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটি স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু রায়বালা গ্রামে ইটভাটির মালিকরা এই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইটভাটি স্থাপন করেছেন। ওই আইন লঙ্ঘন করে কেউ ইটভাটি স্থাপন করলে তাদের এক বছর অনধিক পাঁচ বছরের জেল অথবা আর্থিক জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই আইনের প্রতিফলন ঘটছে না ওই ইটভাটিগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে জানানোর পরেও তারা অজ্ঞাত কারনে কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ঘনবসতি এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় ওই গ্রামের ইটভাটিগুলো বন্ধে রায়বালা গ্রামের সচেতন নাগরিক দাবী জানিয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বিবিসি, ফাইভস্টার, এডিবি ও এমএমএস ইটভাটির পাশে ঘণ বসতি ঘরবাড়ী, গাছপালা ও তিন ফসলি জমি। ওই ইটভাটিগুলোর পাশেই রায়বালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এতিম খানা ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। চারটি ইটভাটিতে দেদার ইট পোড়ানোর কাজ চলছে।  

রায়বালা গ্রামের কৃষক শাহজাহান আকন বলেন, আধা কিলোমিটারের মধ্যে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করায় ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এখন আর আগের মত জমিতে ফসল ফলছে না। তিনি আরো বলেন, ইটভাটির কারনে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ওই ইটভাটি গুলো বন্ধের দাবী জানান তিনি। 

স্থানীয় বাসিন্দা নাশির সিকদার বলেন, একই গ্রামে চারটি ইটভাটি নির্মাণ করায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরেছে। কালো ধোয়া এবং ধুলা ময়লায় পরিবেশ দুষিত হয়ে পরেছে। দ্রæত এ ইটভাটি গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানান তিনি। 

রায়বালা গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটিগুলোর কারনে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ’শ একর ফসলি জমি,জীব বৈচিত্র্য, গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হচ্ছে এবং পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই গ্রামের কৃষি জমি ও মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষায় ওই ইটভাটি গুলো বন্ধের দাবী জানাই। 

এমএমএস ইটভাটির পরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলম মৃধা বলেন, সকল আইন কানুন মেনেই ইটভাটি নির্মাণ করেছি। 

রায়বালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েক গজের মধ্যেই তিনটি ইটভাটি রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিয়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  

 কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ জাকির হোসেন বলেন, প্রভাবখাটিয়ে ইটভাটির মালিকরা কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটি নির্মাণ করছেন। এতে এই এলাকার অন্তত পাচ’শ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ওই ইটভাটিগুলো বন্ধের দাবী তাদের।

এডিবি ইটভাটির মালিক মোঃ নুর জামাল বলেন, প্রশাসনের সকল দপ্তরের অনুমতি নিয়েই ইটভাটি নির্মাণ করেছি। প্রশাসন কিভাবে লোকালয়ে ইটভাটি নির্মাণের অনুমতি দিলো এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি। 

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার ঈশা ইকবাল বলেন, রায়বালা এলাকার কোন ইটভাটি স্থাপনে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। কৃষি জমিতে ইটভাটি স্থাপন করলে একদিকে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ইটভাটি এলাকার জমির ফসল ও পরিবেশ নষ্ট হয়। 

বরগুনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াত মাহমুদ রকিব বলেন, পরিবেশ নষ্ট হয় এমন জায়গায় ইটভাটি স্থাপন করতে পারবে না। রায়বালা গ্রামে কোন ইটভাটি স্থাপন করার অনুমতি দেয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তিনি আরো বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ওই ইটভাটিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, সরকারী নিয়ম বর্হিভুত কোন ইটভাটি নির্মাণ করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ওই ইটভাটি গুলো পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। […]

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ১০:২৮

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে কালু, পারভেজ ও তাদের কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। প্রথমে কালু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর র‌্যাব-৪-এর আভিযানিক দল জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।