টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী চমচম বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। চমচম শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”
দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ও অর্জন শুধু এ জেলার নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চান তারা।
মিষ্টি উৎসব আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং সারা দেশে জেলার ঐতিহ্যকে আরও সুপরিচিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
চমচম শিল্পের প্রসার ও বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারলে একদিকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে মানুষের আগ্রহ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে প্রান্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।
টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প নিয়েও কথা বলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, বিদেশে টাঙ্গাইলের শাড়ির ব্যাপক কদর রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রান্তিক তাঁতিদের স্বল্প সুদে ঋণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে আমি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যারা তাঁতের কাজ করেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তাঁতি সমাবেশ করব। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা নেব।”
টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে।
এর আগে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।