মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
একবার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েক বছর না যেতেই আবারও দখলের চিত্র দেখা দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালসংলগ্ন সরকারি জায়গায়। ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের পশ্চিম পাশে নদীর তীরবর্তী জায়গাটিতে ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। উচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন জায়গাটি খোলা ছিল। নদীর পাড়ের ওই উন্মুক্ত স্থানটি পরে শহরবাসীর জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিকেল ও সন্ধ্যায় অনেকে সেখানে গিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতেন।
তবে সম্প্রতি সেই উন্মুক্ত জায়গাতেই আবার স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন। সরকারি জায়গায় নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা কীভাবে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল—এ প্রশ্নও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন জায়গাটির কিছু অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তবে মূল অংশ বিআইডব্লিউটিএর অধীন। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সরেজমিনের বাস্তবতা হলো, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ফলে সরকারি সম্পত্তিতে দখলের চেষ্টা শুরু হওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি জায়গা ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলমুক্ত করার পর সেখানে পুনরায় কীভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো? নির্মাণকাজের জন্য কোনো বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কোন কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দিয়েছে—তা স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
একবার উচ্ছেদ করা সরকারি জায়গায় আবারও দখল শুরু হওয়ার ঘটনা সরকারি সম্পত্তি রক্ষার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ দখল হয়ে যাওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার চেয়ে দখলের শুরুতেই তা প্রতিহত করা অধিক কার্যকর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মুন্সীগঞ্জ শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীর তীরবর্তী এই জায়গাটি শুধু সরকারি সম্পত্তি নয়, এটি শহরের মানুষের জন্যও একটি উন্মুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তাই জায়গাটি ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব শুধু দখল হওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো সরকারি জায়গায় দখলের চেষ্টা বা অবৈধ নির্মাণ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ।
এ অবস্থায় দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ, নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং স্থাপনা নির্মাণের কোনো বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে যদি কোনো অনুমোদন থেকে থাকে, সেটি কোন কর্তৃপক্ষ দিয়েছে এবং তা সরকারি বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না, তাও যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি পুনরায় দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে এর পেছনে কারা রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করাই এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।