শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলীন শত বছরের ঐতিহ্য, স্মৃতির টানে এখনো আগলে রেখেছেন অনেকে

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ছিল মাটির ঘর। গ্রীষ্মে শীতল, শীতে উষ্ণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশবান্ধব এসব ঘর ছিল গ্রামীণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়। সময়ের পরিবর্তনে টিন ও পাকা ভবনের বিস্তারে সেই মাটির ঘর এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে ঝুঁকি ও অস্বস্তির কারণে অনেকে এসব ঘরে আর না থাকলেও বাবা-দাদার স্মৃতি হিসেবে এখনো ভেঙে […]

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলীন শত বছরের ঐতিহ্য, স্মৃতির টানে এখনো আগলে রেখেছেন অনেকে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ জুলাই ২০২৬, ২০:০৪

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ছিল মাটির ঘর। গ্রীষ্মে শীতল, শীতে উষ্ণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশবান্ধব এসব ঘর ছিল গ্রামীণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়। সময়ের পরিবর্তনে টিন ও পাকা ভবনের বিস্তারে সেই মাটির ঘর এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে ঝুঁকি ও অস্বস্তির কারণে অনেকে এসব ঘরে আর না থাকলেও বাবা-দাদার স্মৃতি হিসেবে এখনো ভেঙে ফেলতে পারেননি।

মাটির ঘরে বসবাস করেই জীবনের সিংহভাগ সময় পার করেছেন আনোয়ারা খাতুন। এখনো তিনি স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির ঘরেই বসবাস করছেন। সাজানো-গোছানো সংসারের সবকিছুর মধ্যে মাটির ঘরটিই যেন তাঁর কাছে সবচেয়ে আপন।

আনোয়ারা খাতুন (৭৫) জানান, সুদীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মাটির ঘরেই বসবাস করছেন। তিনি সখীপুর উপজেলার পাথারপুর গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী মারা গেলেও এই মাটির ঘরই এখন তাঁর সুখ-দুঃখ আর স্মৃতির আশ্রয়।

মানুষের জীবনের সঙ্গে অতীতের স্মৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। একসময় গ্রামবাংলার অধিকাংশ মানুষই মাটির ঘরে বসবাস করতেন। পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার হিসেবে এসব ঘর ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সখীপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মাটির ঘরে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেকেই পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে পুরোনো মাটির ঘর রেখে দিলেও বসবাসের জন্য নির্মাণ করছেন টিন বা পাকা ঘর।

বর্তমানে মাটির ঘরে বসবাসকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব ঘরে সাপ, ইঁদুর ও বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় বাসা বাঁধে। এছাড়া টানা বা ভারী বৃষ্টিতে দেয়ালের মাটির বড় বড় খণ্ড খসে পড়ে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এসব ঝুঁকির কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে টিনের বা পাকা ঘরে চলে গেলেও পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে পুরোনো মাটির ঘর ভেঙে ফেলছেন না।

উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, আমি আমার বাবার কাছ থেকে পাওয়া কোঠা ঘরেই থাকতাম। কিন্তু এক রাতে ভারী বৃষ্টির সময় ঘরের দেয়ালের একটি বড় মাটির খণ্ড ভেঙে একেবারে আমার পাশেই এসে পড়ে।

এরপর আর ঝুঁকি নিইনি। ঘরের অন্য পাশে থাকতাম। দ্রুত একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করি। তবে বাবা-মায়ের স্মৃতি হিসেবে পুরোনো কোঠা ঘরটি এখনো রেখে দিয়েছি। কিন্তু মাটির খন্ড ভেঙে এখন নাই বললেই চলে। 

একই উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়া (৭০) বলেন, আমাদেরও একটি কোঠা ঘর ছিল। আমার জীবনের বড় একটি সময় সেই ঘরেই কেটেছে। কোঠা ঘর গরমের সময় খুবই ঠান্ডা থাকত, কোনো আধুনিক ফ্যানের প্রয়োজন হতো না।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে বড় বড় সাপ বের হতে শুরু করে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত ঘরটি ভেঙে ফেলেছি। এখন শুধু সেই কোঠা ঘরের স্মৃতিই রয়ে গেছে।

একসময় গ্রামের প্রায় সর্বত্রই মাটির ঘর চোখে পড়ত। এসব ঘর ছিল মজবুত, টেকসই ও বসবাসের উপযোগী। মাটি, তুষ ও চুনের মিশ্রণে কাঠের খুঁটির ওপর স্তরে স্তরে লেপে তৈরি করা হতো এসব ঘর। কোথাও কোথাও কাঠের সিঁড়িযুক্ত দুইতলা মাটির ঘরও ছিল, যা স্থানীয়ভাবে ‘কোঠা ঘর’ নামে পরিচিত ছিল।

বিদ্যুৎ না থাকলেও এসব ঘর প্রাকৃতিকভাবেই শীতল থাকত। কিন্তু আধুনিক নির্মাণসামগ্রীর সহজলভ্যতা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়ে।

সখীপুর সরকারি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, মাটির ঘর আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় টিন ও দালানকোঠার প্রচলন না থাকায় মানুষ মাটির ঘরেই বসবাস করত।

আধুনিকতার কারণে মাটির ঘরের সংখ্যা কমে গেলেও এখনো গ্রামাঞ্চলের কিছু এলাকায় এ ধরনের ঘর দেখা যায়। এসব ঘরের সঙ্গে মানুষের সুখ-দুঃখ, ঐতিহ্য ও আবেগের অসংখ্য স্মৃতি জড়িত। 

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের এই অনন্য নিদর্শন সংরক্ষণে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে আগামী প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতায় কিংবা পুরোনো ছবিতেই মাটির ঘর খুঁজে পাবে। আজও সখীপুরের কয়েকটি গ্রামে টিকে থাকা এসব কোঠা ঘর তাই কেবল একটি বসতঘর নয়, বরং বাংলার গ্রামীণ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারিবারিক স্মৃতির জীবন্ত সাক্ষী।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।