পটুয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি মৃত শামীমের স্ত্রী ও এতিম দুই শিশু সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের করুণ অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসক জানতে পারেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর দুই শিশুর দুধ কেনার সামর্থ্যও নেই। এমনকি খাবারের অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। অসহায় পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে তাদের মা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে জানান।
পরিবারটির এমন হৃদয়বিদারক অবস্থা শুনে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দুই শিশুর একজনকে কোলে তুলে স্নেহ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটিকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শুকনো খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে শামীমের স্ত্রীকে চার মাসব্যাপী যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক শামীমের স্ত্রীকে বিধবা ভাতা এবং তার শাশুড়িকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
অন্যদিকে, পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে পরিবারটিকে ৫ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল এবং একটি রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে পরিবারটি নতুন করে বেঁচে থাকার আশা ফিরে পেয়েছে। স্থানীয়রাও জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।