স্বজনহারা ও একাকিত্বে ভোগা প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে পটুয়াখালী পৌরসভার সহযোগিতায় দক্ষিণবঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী মানবিক আয়োজন ‘ফলে-গল্পে নবীন-প্রবীণ হৃদ্যতার আড্ডা’।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ, মৌসুমি ফল উৎসব এবং প্রবীণদের সঙ্গে আন্তরিক সময় কাটানোর আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে পটুয়াখালী পৌরসভার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার বৃদ্ধাশ্রমে অবস্থানরত প্রবীণদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। পরে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ঔষধ বিতরণ করা হয়। চিকিৎসাসেবা শেষে আয়োজন করা হয় ফল উৎসব ও নবীন-প্রবীণ মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জুয়েল রানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, সচিব মাসুম বিল্লাহ, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিনা ইসলাম এবং দক্ষিণবঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
মধুমাস উপলক্ষে প্রবীণদের জন্য পরিবেশন করা হয় আম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, আমড়া, লটকন, কলা, ড্রাগন ফল, কামরাঙ্গা, জাম, ডেউয়া ও পানি তালসহ ১৫ প্রকারের মৌসুমি ফল। রঙিন ফলের সমাহার এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতায় পুরো বৃদ্ধাশ্রমজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে আয়োজনের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশ ছিল প্রবীণদের সঙ্গে তরুণদের প্রাণবন্ত আড্ডা। স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের পাশে বসে শুনেছেন জীবনের গল্প, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ। দীর্ঘদিন পর মনের কথা বলার সুযোগ পেয়ে অনেক প্রবীণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ শোনান কর্মজীবনের স্মৃতি, কেউ স্মরণ করেন প্রিয়জন ও পরিবারের কথা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, “প্রবীণরা সমাজের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ধারক। তাদের প্রতি সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা প্রদর্শন শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের মানবিক কর্তব্য। পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি তরুণদেরও তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমাজের প্রবীণ মানুষদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই এ আয়োজন। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং একাকিত্ব কিছুটা হলেও লাঘব করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
দক্ষিণবঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “প্রবীণদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানুষের সান্নিধ্য ও মানসিক সমর্থন। এ ধরনের আয়োজন তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তারা নিজেদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে অনুভব করেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিমন সিকদার, মারুফ ইসলাম, উম্মে হানী, সোহানা, আদিবা, আফিয়া, আসাদুল হক, গাজী সালাহ উদ্দিন আবিদ, নাহিদ আহমেদ, আফ্রিদা, নাহিদাসহ পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা।
মানবিকতা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এই আয়োজন প্রবীণদের মনে নতুন করে আনন্দের সঞ্চার করে। তরুণ ও প্রবীণদের এই হৃদ্যতাপূর্ণ মিলনমেলা সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।