দিনে মাছের খামার, আর পুকুরপাড়জুড়ে কলার বাগান—এই দুইয়ের ওপর ভর করেই বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন দুই উদ্যোক্তা। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে ধাক্কা। নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রায় ৯০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া ও একটি সেচ মোটর নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
বুধবার রাতে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মশিন্দা চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে গ্রামের কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম ও বানী আমিন যৌথভাবে ১৮ বিঘা আয়তনের দুটি পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরের চারপাশে প্রায় দুই হাজার কলাগাছ লাগান তাঁরা। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সামনে ভালো মুনাফার আশা করেছিলেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে বাগানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, পুকুরপাড়জুড়ে সারি সারি কলাগাছ মাটিতে লুটিয়ে আছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৯০০ গাছ। পাশেই খড়ের গাদার পোড়া চিহ্ন এবং সেচ মোটর না থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বাগানটা শুধু গাছ ছিল না, আমাদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনার অংশ ছিল। এক রাতে এতগুলো গাছ কেটে ফেলায় আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন মাছের খামার নিয়েও উদ্বেগে আছি।”
তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগে নাম আসা নূর ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পূর্বের বিরোধের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক রাতের এই তাণ্ডবে শুধু শত শত কলাগাছই নষ্ট হয়নি, অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দুই উদ্যোক্তার বহুদিনের পরিশ্রম আর ভবিষ্যৎ আয়ের আশা।