মাকে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলে জুয়েল মিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে। নিহত মা মারুফা বেগম (৬০) নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ছেলে জুয়েলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জুয়েল পলাতক রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী ও ছেলেকে থানায় আনা হয়েছে। এব্যাপারে নিহতের ছোট ছেলে লাভিন বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার মারুফা বেগমকে দেখা গেলেও এরপর তাকে আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে সোমবার কোন এক সময় তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।
নিহতের ছেলে লাভিন মিয়া জানায়, ৩ ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই মারা গেছে। অপর ভাই জুয়েল মিয়া বাড়িতে থাকে আর আমি ঢাকায় থাকি। শনিবার (৩০ মে) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। একই দিন ভাইয়ের উপর রাগ করে ভাবি তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন রবিবার আমার ঘরে মাকে থাকার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি জলঢাকার দুন্দিবাড়ি এলাকায় যাই।
ঘটনারদিন বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খুঁজতে থাকি। মায়ের সন্ধান না পেয়ে আমার ভেতরে হতাশা কাজ করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমার স্ত্রী বাড়িতে এসে আমার ঘরের বিছানার তোশক ঠিক করতে গিয়ে রক্ত দেখতে পায়।
চিৎকার করলে আমি ঘরে গিয়ে রক্ত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এক পর্যায় আমার ভাই জুয়েলের থাকার ঘরের মেঝের মাটিতে ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখতে পাই। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের খবর দিলে তারাও ঘরের মেঝের মাটির ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখে সন্দেহ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে রাতেই (সাড়ে ১২টায়) ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে লাশ পুঁতে রাখা হয়।
আজ বৃহষ্পতিবার (৪ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে ছেলে জুয়েলেই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে। এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ছেলে লাভিন বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত জুয়েল পলাতক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও জুয়েলের ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় আনা হয়েছে।
এদিকে, ময়না তদন্তের জন্য লাশ আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।