প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অনভিপ্রেত ও অযাচিত শব্দচয়নের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মো. আব্দুল আলিম।
শনিবার (৮ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসে আব্দুল আলিম দাবি করেন, গত ৪ আগস্ট সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার দুটি হলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করে হল থেকে বের করে দেন। পরে অস্ত্রসহ হলে অবস্থান এবং হলের আশপাশে শিক্ষার্থীদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আব্দুল আলিম জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা চার দিন ধরে হলের বাইরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে অনেক শিক্ষার্থীর অনার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে মেডিকেল মোড়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় প্রবেশ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও মানসিক চাপের মধ্যে তিনি অসচেতনভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা বলা তাঁর উচিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্যের শব্দচয়নের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আব্দুল আলিম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আমার বক্তব্যের শব্দচয়নের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ওই পরিস্থিতিতে এমন শব্দ ব্যবহার করা আমার উচিত হয়নি।”
তবে বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও দাবি করেছেন তিনি।
আব্দুল আলিম বলেন, “আমার বক্তব্যের অনভিপ্রেত শব্দচয়নের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে আমাদের মূল প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে—কেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হলো? কেন তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলো না? কেন শিক্ষার্থীরা এখনো নিজেদের হলে নিরাপদে প্রবেশ করতে পারছে না?”
প্রধানমন্ত্রীর কাছে গত ৪ আগস্টের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, মারধর, হল থেকে বের করে দেওয়া, অস্ত্রসহ হলে অবস্থান এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদে নিজ নিজ হলে ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক আবাসিক, শিক্ষাবান্ধব ও পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানান আব্দুল আলিম।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা চাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদে হলে ফিরুক, নিয়মিত পড়াশোনা করুক এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুক। কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত নয়; ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের প্রত্যাশা।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদে হলে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের শিক্ষা ও পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।