পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কৃতি সন্তান, ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা ইখতিয়ার রহমান কবির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অনুমোদিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ইখতিয়ার রহমান কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি নেতাকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি কখনো আন্দোলনের মাঠ ছাড়েননি।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর দলের কঠিন সময়ে তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ওই সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার, স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং প্রায় এক বছর কারাভোগ করতে হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শুরু করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইখতিয়ার রহমান কবিরের এ পদোন্নতিতে পটুয়াখালী জেলায়, বিশেষ করে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার এ অর্জন জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং তরুণ নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ইখতিয়ার রহমান কবির দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দল আমার ওপর যে আস্থা ও দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শ বাস্তবায়নের সংগ্রামে আগামীতেও রাজপথে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করব।”
স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইখতিয়ার রহমান কবিরের এ অর্জনকে পটুয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি গৌরবজনক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এ নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং পটুয়াখালীর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
তারা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্ব যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।