সাইফুল্লাহ মাসুম , বেরোবি প্রতিনিধি
যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর মো. শামীম হোসেন শিক্ষা ছুটি নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তিনি শিক্ষা ছুটির আবেদন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি শিক্ষা ছুটির জন্য আবেদন করেন। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে শিক্ষা ছুটির আবেদন জমা দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তার শিক্ষা ছুটির বিষয়ে আইনগত দিক পর্যালোচনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ও ইউজিসিতে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মো. শামীম হোসেনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থী ৩১ পৃষ্ঠার স্বহস্তে লেখা অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে শিক্ষার্থী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাকে অশোভন ইঙ্গিত দেন, কুপ্রস্তাব দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করা হলে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
রংপুর জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও তদন্ত কমিটির সদস্য রুমানা জামান বলেন, আমি তদন্ত কমিটির একজন সদস্য মাত্র। তবে যেহেতু তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে তিনি এই ছুটি নিতে পারেন না। তাহলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ন্যায়বিচার হবে না।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী যদি মহিলা পরিষদের সহায়তা চান, তাহলে আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড.মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ও ইউজিসি তে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মঞ্জুর হয়নি।
যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত একজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছুটি দিতে পারে কিনা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো.শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।