হাদি হত্যার বিচার ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চ-এর নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর তারা শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংগঠনটির অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, ডাকসুর নেত্রী জুমা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেত্রী শান্তা আক্তারসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “টেবিলে বসে দুই-তিন ঘণ্টার আলোচনার মাধ্যমে যে সমস্যার সমাধান করা যেত, তা না করে ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের ওপর পুলিশি হামলা চালানো অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক।”
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করেন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ হামলা চালিয়েছে।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।