সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে এক মানবপাচারকারীসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার সন্ধ্যায় (২৪ জানুয়ারি) দহগ্রামের আঙ্গরপোতা সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ডিএএমপি-১ প্রধান পিলার ও উপ-পিলার ৮-এর নিকট দিয়ে এক ব্যক্তি ও এক শিশুকে ভারতে পাচারের চেষ্টা চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দহগ্রামের আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহলদল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিস্ত্রিপাড়া এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন সুজন দাস (৩০) মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য, পাটগ্রাম পৌরসভার বেংকান্দা এলাকার বাসিন্দা। হেমন্ত দাস (২৫) পাচারের শিকার ব্যক্তি, হাতীবান্ধা উপজেলার পুরাতন কাচারী গাওচুল্কা এলাকার বাসিন্দা, বলরাম রায় (১২) পাচারের শিকার শিশু।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুজন দাস স্বীকার করেছেন যে, ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে তিনি তাদের অবৈধভাবে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
এই চক্রের সঙ্গে আরও পাঁচজন জড়িত রয়েছেন যারা অভিযানের সময় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পলাতক আসামিরা হলেন— দহগ্রামের জাহিনুর রহমান (৩০), শাকিরুল ইসলাম (২৮), নুরুজ্জামান (৪০), বেলাল হোসেন (৩০) ও শুভ (২৫)।
রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আলদীন জানান, “সীমান্ত সুরক্ষায় নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মানবপাচার দমনে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে।”
এ ঘটনায় আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার আখেরুজ্জামান বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আসামিদের থানায় হস্তান্তর করেছে।