বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হঠাৎ রাজপথে নেমে আসছে, যা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাবি আদায়ের প্রয়াস সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষত ঢাকায় রাজপথ দখল করে একের পর এক কর্মসূচি পালনের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। পাশাপাশি গাজীপুর ও আশুলিয়ার শ্রমিকঘন অঞ্চলেও মহাসড়ক অবরোধের মতো অচলাবস্থা […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৯

নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হঠাৎ রাজপথে নেমে আসছে, যা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাবি আদায়ের প্রয়াস সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

বিশেষত ঢাকায় রাজপথ দখল করে একের পর এক কর্মসূচি পালনের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। পাশাপাশি গাজীপুর ও আশুলিয়ার শ্রমিকঘন অঞ্চলেও মহাসড়ক অবরোধের মতো অচলাবস্থা থেকে মুক্তি মিলছে না।

সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকার একাধিক খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সংঘাতে লিপ্ত হয়েছেন। এর আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরাও একাধিকবার রাজপথ অবরোধ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ভুক্তভোগী ছাড়াও অপরাধ ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনশৃঙ্খলা ফেরাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে নৈরাজ্য মোকাবিলা করা কঠিন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকেও নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল আচরণে সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক  বলেন, ঢাকায় নানা দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা ঘটছে। এটি মোকাবিলায় জোরালো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথাও সরব, আবার কোথাও নীরব। দিনক্ষণ ও স্থান ঘোষণা দিয়েও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কেউ কেউ এসবের ভেতর ইন্ধনের কথা বলছেন। গোয়েন্দাদের খুঁজে বের করতে হবে ঘটনার পেছনেও কোনো ঘটনা রয়েছে কিনা।

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অধিকারকেন্দ্রিক আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে আন্দোলন যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে উন্মাদনা ভালো ফল আনে না। এসবের বিরুদ্ধে জোরালো ও কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি। সংঘাত-সহিংসতায় জড়ালে কারও পরিচয় মুখ্য নয়, যে হোক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আবার কেউ কেউ জনদুর্ভোগ ঘটিয়ে দাবি-দাওয়া আদায় করার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া বাড্ডার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক ছাত্র চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম ঘটনা ঘটে। ৩৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে প্রথমে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ এবং ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও কলেজে হামলা-ভাঙচুর করে। পরে আগাম ঘোষণা দিয়ে সোমবার সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ান। লন্ডভন্ড করা হয়েছে মোল্লা কলেজ।

এ ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল্লাহ নয়ন বলেন, অকল্পনীয় এই সংঘাতে ছাত্রদের কেউ ব্যবহার করেছে কিনা, নিশ্চয় গোয়েন্দারা তা বের করবে। আগের দিন ঘোষণা দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। সব তছনছ করা হয়েছে। প্রশাসনকে বিষয়টি আগেভাগে জানানোর পরও সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। যখন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী হাজির হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ছাত্র এখন সামান্য বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে। তারা শিক্ষক ও অভিবাবকদের কথা শুনতে চায় না। আমরা মেসেজ দিয়ে, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি সামাল দেওয়ার কথা বলে ব্যর্থ হয়েছি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, ধীরে ধীরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ছাত্র-শিক্ষক, গণমাধ্যমসহ সবার ভূমিকা আছে। নিজের স্বার্থে একজনকে ছোট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা কিছু লিখে দেওয়ার যে মনোবৃত্তি, এখান থেকে বের হতে না পারলে ঘৃণা বাড়বে।

তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘাত ছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একই সঙ্গে কয়েক দিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ও মালিকরা বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। সোমবার ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ফের সড়ক অবরোধ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা।

পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এআইজি ইনামুল হক সাগর বলেন, প্রত্যাশা থাকবে, নাগরিক জীবন বিপন্ন হোক এমন কোনো পরিস্থিতি যাতে না ঘটে। নগরবাসীকে বিপাকে ফেলে কারও কর্মসূচি প্রত্যাশিত নয়।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর প্রথমে কিছুদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকার রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সচিবালয়ে আনসার সদস্যদের বিক্ষোভও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এমন পরিস্থিতিতে ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার আশপাশে যে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি-দাওয়া জানানো হচ্ছে। ঘর থেকে বের হলেই আকস্মিক বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় যানজটে আটকা পড়ছেন তারা। রাস্তাঘাট বন্ধ করে অন্যদের জিম্মি করার মধ্য দিয়ে এসব অপ্রীতিকর ঘটনা দাবি আদায় বা চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে মনে করছেন অনেকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, সবাইকে ধৈর্যশীল ও সহনশীল আচরণ করতে হবে। কোনো দাবি থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক মাধ্যমে উপস্থাপন করা যেতে পারে। চলমান পরিস্থিতি পুলিশ আইনের প্রতি যত্নশীল হয়েই দায়িত্ব পালন করছে।

 

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।