রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

জকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত দৌড়ে ১৮৯ প্রার্থী, যাচাই-বাছাইয়ে বাদ ৪২ জন

আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে রইলেন ১৮৯ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ৪২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে জকসুর নিজস্ব ওয়েবসাইটে […]

জকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত দৌড়ে ১৮৯ প্রার্থী, যাচাই-বাছাইয়ে বাদ ৪২ জন

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২৭

আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে রইলেন ১৮৯ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ৪২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে জকসুর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ জন এবং হল সংসদের ৪ জন রয়েছেন। চূড়ান্ত তালিকায় কেন্দ্রীয় সংসদের ২১ পদের বিপরীতে ১৫৬ জন এবং একমাত্র হল সংসদের ১৩ পদের বিপরীতে ৩৩ জন স্থান পেয়েছেন।

ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ১৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এছাড়া অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে ৪, শিক্ষা ও গবেষণায় ৯, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ৫, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে ৫, আইন ও মানবাধিকারে ৪, আন্তর্জাতিক সম্পাদকে ৮, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ৭, ক্রীড়ায় ৭, পরিবহনে ৪, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণে ১০ এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। সদস্য পদের ৭টি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৫৭ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল ‘নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী’ শিক্ষার্থী সংসদে ভিপি পদে ৩ জন, জিএস পদে ৩ জন এবং এজিএস পদে ২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। এছাড়া সাহিত্য ও প্রকাশনায় ২, সংস্কৃতিতে ৪, পাঠাগারে ২, ক্রীড়ায় ২, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণে ৩ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। হলটির ৪টি সদস্য পদের জন্য লড়বেন ৮ জন।

এর আগে গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ৩৪টি পদের বিপরীতে ৩১২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছিলেন ২৪৯ জন। গত ২৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ২৩১ জনের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ১৯৪ ও হলে ৩৭ জন ছিলেন। পরবর্তীতে ৪ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভার পর নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়।

তদন্ত সাপেক্ষে ঝুলে আছে কয়েকজনের ভাগ্য।

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত নির্বাচনী তফসিলের ১২ ক্রম অনুযায়ী এই তালিকা প্রকাশ করা হলো। তবে প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তাদের নাম আপাতত চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের প্রার্থীতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ হল শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীদের তথ্য যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা ও বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, “আমরা সকলের সবকিছু যাচাই-বাছাই করে জকসুর কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদে চূড়ান্ত প্রার্থিতা প্রকাশ করেছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে থাকা প্রার্থীদের সব অভিযোগের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে কিন্তু এতে ডোপ টেস্ট ও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক প্রার্থী বাদ পড়েছেন।”

আপিল ও নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজ বাদ যাওয়া প্রার্থীরা চাইলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে জকসুর নির্বাচনের কোনো প্রভাব পড়বে না।”

উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে এবং ১৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী প্রচারণা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ ও গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বর।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।