মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

যুক্তির চেয়ে উচ্চতর অবস্থান নেই, সমস্ত কুরআন বুদ্ধিবৃত্তিক: ইরানি দার্শনিক

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৭

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, আকল্‌-নির্ভর জীবন, কুরআনে প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা, অধিকতর উপলব্ধি ও অনুধাবনের জন্য প্রচেষ্টা ও প্রজ্ঞা বোঝানোর ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষার সহায়তা বা অবদানসহ আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন।

পবিত্র কুরআনের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমত থাকা সম্পর্কে সুরা হুদ-এর প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক প্রজ্ঞাময় বা মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে নাজিল হয়েছে।– পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের মত এ আয়াতেও আকল্‌-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কুরআনের সমস্ত বাক্য বা বাণী আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানির মতে আকল্-এর চেয়ে সুদৃঢ় ও উচ্চতর বিশ্বে আর কিছুই নেই। তাঁর মতে, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। আমাদের জানা ও চাওয়ার মধ্যে সব সময়ই দ্বন্দ্ব ঘটছে। আমরা আমাদের জানা বিষয় বা জ্ঞানকে প্রাধান্য না দিয়ে ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। আর মানুষ ভুল করছে এখানেই।

ধর্মীয় সাহিত্যে নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা পাশাপাশি উচ্চারিত। হাকিম বা প্রজ্ঞাবান তাকে বলা হয় যে খোদায়ি বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীতে বিশ্বাসী। আর এ বিষয়টিও আকল্‌ বা প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। হাকিমের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমাত আছে বলেই তিনি বুঝতে পারেন, অর্থাৎ খোদা ও খোদার গুণাবলী তিনি বুঝতে পারেন।
একজন দার্শনিক কি হাকিম বা প্রজ্ঞাবান নাও হতে পারেন? –এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, না, তা হতে পারে না। ফিলসুফ বা ফিলোসফার তথা দার্শনিক একটি গ্রিক শব্দ, আর হাকিম হচ্ছে ইসলামী পরিভাষা। দুটোই সমান বা অভিন্ন। প্রজ্ঞা বা হিকমাত জানা বেশ কঠিন। ফিলো ও সফার – গ্রিক এ কথাটির অর্থ যে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানকে ভালবাসে। আমাদের উচিত প্রজ্ঞার অনুরাগী হওয়া। অন্য কথায় অনুধাবনের অনুরাগী হওয়া উচিত আমাদের। ইবাদাতেও অনুধাবনকে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং তাতে (আল্লাহর) নৈকট্য পাওয়া যায়।
নৈকট্য বলতে কি বোঝায়? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, উপলব্ধির নৈকট্য, অজ্ঞতার মাধ্যমে কোনো কিছুর কাছে যাওয়া যায় না।

জানার ইচ্ছা ও বোঝার ইচ্ছা অর্জনের জন্য কি করা উচিত?

এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন আমাদেরকে অবশ্যই এ জন্য প্রবৃত্তির খেয়ালিপনা ও বেপরোয়া বা উদ্ধত ইচ্ছাগুলোর সঙ্গে সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে কোন্ কোন্ বিষয়গুলো যৌক্তিক ও বিবেক-বুদ্ধির দাবিগুলো কি কি? যদি আমাদের বুদ্ধি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাজকর্ম করতে হবে। সবাই বুদ্ধি-বিবেক খাটায় না। তাই এদের উদ্দেশে মহান আল্লাহ বলেছেন, শরিয়ত বা ইসলামী বিধান মেনে চল।

নতুন প্রজন্মের মানুষের অনেকেই অগোছালো চিন্তা-ভাবনার শিকার ও বুদ্ধিমত্তাকে নির্বাসনে দিয়ে রেখেছে নিজের নানা প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে। এ অবস্থার প্রতিকার কি? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আকল্ ভুল করে না, কিন্তু ইচ্ছাগুলো আকল-এর ওপর বিজয়ী হয়। মানুষের যেমন আকল্‌ বা বিবেক আছে তেমনি আছে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি যেমন, অর্থের লোভ, পদের আকর্ষণ ও এমন হাজারো বিপদ বা বিপর্যয় ইত্যাদি। এসবই হল নফসানিয়াত বা কুপ্রবৃত্তি। এসবকে যদি আকল-এর ওপর প্রাধান্য দেয়া না হয় ও না বুঝেও শরিয়ত মেনে চলে তাহলে শরিয়ত তাকে পথ দেখাবে।

শরিয়ত এক্ষেত্রে আসলে কি বলে? উত্তরে তিনি বলেছেন, শরিয়ত চলমান সঠিক বিষয়গুলো আমাদের দেখিয়ে দেয়। শরিয়ত বলে নামাজ পড়, রোজা রাখ, চুরি করো না, খারাপ কাজ করো না ইত্যাদি।
শরিয়ত মানব-জীবনের আলোকিত পথ দেখায়, তো হিকমাতের প্রতি গুরুত্ব মানুষের জন্য কি বার্তা দেয়? হিকমত হল এটাই যে তুমি যেহেতু সব কিছুর বাস্তবতা বা রহস্য বোঝ না তাই তোমাকে শরিয়ত মেনে চলতে হবে, অর্থাৎ আল্লাহ মহানবী (সা)’র মাধ্যমে বাস্তবতা বা সত্যগুলো আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন।

প্রথম মুসলিম দার্শনিক ফারাবি। হিকমাত ও দর্শন দিবসে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেরা ইরানি দার্শনিক বা হাকিমদের দর্শন সরাসরি জানার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি?

জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ফারাবি ও ইবনে সিনার দর্শন নজিরবিহীন। আজকাল দর্শনের নামে কিছু অর্থহীন কথা বলা হয়। ফারাবি ও ইবনে সিনার বক্তব্যগুলো অত্যন্ত উচ্চ মানের। এসব পড়তে হবে বড় ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষকদের কাছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে উনাদের কথা বোঝা যাবে না।

আধুনিক যুগে মানুষ নতুন কি কি জ্ঞান যুক্ত করেছে? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, তারা কিছু অর্থহীন জ্ঞান তৈরি করেছে! অর্থাৎ প্রভাবহীন কিছু তথ্য। তথ্য ও জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। সারাদিন আমরা নানা মিডিয়া থেকে অনেক তথ্য পাচ্ছি যা মানুষের মনকে ছেয়ে রাখে, কিন্তু এসব তথ্য তাদের গভীরতা কমিয়ে দেয়। এসব মানুষকে সমৃদ্ধ ও জ্ঞানগর্ভ করে না। অতীতের দার্শনিকরা গভীরভাবে ভাবতেন ও ভাবার সময় পেতেন এবং জ্ঞানের গভীরে পৌঁছতেন। আজকাল অপ্রাসঙ্গিক অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি, বিশেষ করে মোবাইল ফোন মানুষের কাছে এই আপদ এনে দিয়েছে।

তাহলে আধুনিক এ বিশ্বে কি করা উচিত? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আমি এটা বলতে পারি না যে অবশ্যই কি কি করা উচিত। আমার পরামর্শ হল এটা যে আমরা যেন প্রাত্যহিক নানা গতানুগতিকতার শিকার না হই। আমাদের উচিত গভীর দর্শনের বইগুলো পড়া। আমি ইসলামী দর্শনের বিষয়ে একটি কোর্স বা সিরিজ লেখা লিখেছি তা পড়ুন। ইসলামী বিশ্বের দার্শনিক চিন্তাগুলো যথাযথভাবে পড়ুন। সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রশ্ন করুন। আধুনিক যুগে টেকনিক ও শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু চিন্তার অগ্রগতি হয়নি। তথ্য বেড়েছে কিন্তু প্রশান্তি কমেছে।

ফার্সি সাহিত্য দর্শন বোঝার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। বিশেষ করে হাফিজ ও সাদির কবিতা ভালো করে বুঝে শুনে পড়তে পারলে অনেক কিছু জানা যায় দর্শন ও প্রজ্ঞার।

এমন কোনো বাক্য কি বলবেন দার্শনিকদের যা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উপদেশমূলক। জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, একটি বাক্য সবাইকে প্রশান্তি দেবে এমন কিছু আমার জানা নেই। আমাদের সবারই উচিত বাস্তবতা তথা সত্যের জন্য তৃষ্ণার্ত হওয়া। বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। আমাদের ফার্সি সাহিত্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ। কেবল একটি পয়েন্ট বা দিক বলা হবে আর তা সবাই গ্রহণ করবে বাস্তবতা এমন নয়।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৩

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৩

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৩

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৩