রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

যুক্তির চেয়ে উচ্চতর অবস্থান নেই, সমস্ত কুরআন বুদ্ধিবৃত্তিক: ইরানি দার্শনিক

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৭

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, আকল্‌-নির্ভর জীবন, কুরআনে প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা, অধিকতর উপলব্ধি ও অনুধাবনের জন্য প্রচেষ্টা ও প্রজ্ঞা বোঝানোর ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষার সহায়তা বা অবদানসহ আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন।

পবিত্র কুরআনের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমত থাকা সম্পর্কে সুরা হুদ-এর প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক প্রজ্ঞাময় বা মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে নাজিল হয়েছে।– পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের মত এ আয়াতেও আকল্‌-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কুরআনের সমস্ত বাক্য বা বাণী আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানির মতে আকল্-এর চেয়ে সুদৃঢ় ও উচ্চতর বিশ্বে আর কিছুই নেই। তাঁর মতে, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। আমাদের জানা ও চাওয়ার মধ্যে সব সময়ই দ্বন্দ্ব ঘটছে। আমরা আমাদের জানা বিষয় বা জ্ঞানকে প্রাধান্য না দিয়ে ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। আর মানুষ ভুল করছে এখানেই।

ধর্মীয় সাহিত্যে নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা পাশাপাশি উচ্চারিত। হাকিম বা প্রজ্ঞাবান তাকে বলা হয় যে খোদায়ি বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীতে বিশ্বাসী। আর এ বিষয়টিও আকল্‌ বা প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। হাকিমের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমাত আছে বলেই তিনি বুঝতে পারেন, অর্থাৎ খোদা ও খোদার গুণাবলী তিনি বুঝতে পারেন।
একজন দার্শনিক কি হাকিম বা প্রজ্ঞাবান নাও হতে পারেন? –এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, না, তা হতে পারে না। ফিলসুফ বা ফিলোসফার তথা দার্শনিক একটি গ্রিক শব্দ, আর হাকিম হচ্ছে ইসলামী পরিভাষা। দুটোই সমান বা অভিন্ন। প্রজ্ঞা বা হিকমাত জানা বেশ কঠিন। ফিলো ও সফার – গ্রিক এ কথাটির অর্থ যে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানকে ভালবাসে। আমাদের উচিত প্রজ্ঞার অনুরাগী হওয়া। অন্য কথায় অনুধাবনের অনুরাগী হওয়া উচিত আমাদের। ইবাদাতেও অনুধাবনকে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং তাতে (আল্লাহর) নৈকট্য পাওয়া যায়।
নৈকট্য বলতে কি বোঝায়? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, উপলব্ধির নৈকট্য, অজ্ঞতার মাধ্যমে কোনো কিছুর কাছে যাওয়া যায় না।

জানার ইচ্ছা ও বোঝার ইচ্ছা অর্জনের জন্য কি করা উচিত?

এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন আমাদেরকে অবশ্যই এ জন্য প্রবৃত্তির খেয়ালিপনা ও বেপরোয়া বা উদ্ধত ইচ্ছাগুলোর সঙ্গে সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে কোন্ কোন্ বিষয়গুলো যৌক্তিক ও বিবেক-বুদ্ধির দাবিগুলো কি কি? যদি আমাদের বুদ্ধি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাজকর্ম করতে হবে। সবাই বুদ্ধি-বিবেক খাটায় না। তাই এদের উদ্দেশে মহান আল্লাহ বলেছেন, শরিয়ত বা ইসলামী বিধান মেনে চল।

নতুন প্রজন্মের মানুষের অনেকেই অগোছালো চিন্তা-ভাবনার শিকার ও বুদ্ধিমত্তাকে নির্বাসনে দিয়ে রেখেছে নিজের নানা প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে। এ অবস্থার প্রতিকার কি? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আকল্ ভুল করে না, কিন্তু ইচ্ছাগুলো আকল-এর ওপর বিজয়ী হয়। মানুষের যেমন আকল্‌ বা বিবেক আছে তেমনি আছে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি যেমন, অর্থের লোভ, পদের আকর্ষণ ও এমন হাজারো বিপদ বা বিপর্যয় ইত্যাদি। এসবই হল নফসানিয়াত বা কুপ্রবৃত্তি। এসবকে যদি আকল-এর ওপর প্রাধান্য দেয়া না হয় ও না বুঝেও শরিয়ত মেনে চলে তাহলে শরিয়ত তাকে পথ দেখাবে।

শরিয়ত এক্ষেত্রে আসলে কি বলে? উত্তরে তিনি বলেছেন, শরিয়ত চলমান সঠিক বিষয়গুলো আমাদের দেখিয়ে দেয়। শরিয়ত বলে নামাজ পড়, রোজা রাখ, চুরি করো না, খারাপ কাজ করো না ইত্যাদি।
শরিয়ত মানব-জীবনের আলোকিত পথ দেখায়, তো হিকমাতের প্রতি গুরুত্ব মানুষের জন্য কি বার্তা দেয়? হিকমত হল এটাই যে তুমি যেহেতু সব কিছুর বাস্তবতা বা রহস্য বোঝ না তাই তোমাকে শরিয়ত মেনে চলতে হবে, অর্থাৎ আল্লাহ মহানবী (সা)’র মাধ্যমে বাস্তবতা বা সত্যগুলো আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন।

প্রথম মুসলিম দার্শনিক ফারাবি। হিকমাত ও দর্শন দিবসে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেরা ইরানি দার্শনিক বা হাকিমদের দর্শন সরাসরি জানার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি?

জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ফারাবি ও ইবনে সিনার দর্শন নজিরবিহীন। আজকাল দর্শনের নামে কিছু অর্থহীন কথা বলা হয়। ফারাবি ও ইবনে সিনার বক্তব্যগুলো অত্যন্ত উচ্চ মানের। এসব পড়তে হবে বড় ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষকদের কাছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে উনাদের কথা বোঝা যাবে না।

আধুনিক যুগে মানুষ নতুন কি কি জ্ঞান যুক্ত করেছে? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, তারা কিছু অর্থহীন জ্ঞান তৈরি করেছে! অর্থাৎ প্রভাবহীন কিছু তথ্য। তথ্য ও জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। সারাদিন আমরা নানা মিডিয়া থেকে অনেক তথ্য পাচ্ছি যা মানুষের মনকে ছেয়ে রাখে, কিন্তু এসব তথ্য তাদের গভীরতা কমিয়ে দেয়। এসব মানুষকে সমৃদ্ধ ও জ্ঞানগর্ভ করে না। অতীতের দার্শনিকরা গভীরভাবে ভাবতেন ও ভাবার সময় পেতেন এবং জ্ঞানের গভীরে পৌঁছতেন। আজকাল অপ্রাসঙ্গিক অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি, বিশেষ করে মোবাইল ফোন মানুষের কাছে এই আপদ এনে দিয়েছে।

তাহলে আধুনিক এ বিশ্বে কি করা উচিত? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আমি এটা বলতে পারি না যে অবশ্যই কি কি করা উচিত। আমার পরামর্শ হল এটা যে আমরা যেন প্রাত্যহিক নানা গতানুগতিকতার শিকার না হই। আমাদের উচিত গভীর দর্শনের বইগুলো পড়া। আমি ইসলামী দর্শনের বিষয়ে একটি কোর্স বা সিরিজ লেখা লিখেছি তা পড়ুন। ইসলামী বিশ্বের দার্শনিক চিন্তাগুলো যথাযথভাবে পড়ুন। সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রশ্ন করুন। আধুনিক যুগে টেকনিক ও শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু চিন্তার অগ্রগতি হয়নি। তথ্য বেড়েছে কিন্তু প্রশান্তি কমেছে।

ফার্সি সাহিত্য দর্শন বোঝার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। বিশেষ করে হাফিজ ও সাদির কবিতা ভালো করে বুঝে শুনে পড়তে পারলে অনেক কিছু জানা যায় দর্শন ও প্রজ্ঞার।

এমন কোনো বাক্য কি বলবেন দার্শনিকদের যা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উপদেশমূলক। জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, একটি বাক্য সবাইকে প্রশান্তি দেবে এমন কিছু আমার জানা নেই। আমাদের সবারই উচিত বাস্তবতা তথা সত্যের জন্য তৃষ্ণার্ত হওয়া। বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। আমাদের ফার্সি সাহিত্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ। কেবল একটি পয়েন্ট বা দিক বলা হবে আর তা সবাই গ্রহণ করবে বাস্তবতা এমন নয়।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ যোগ দিলে তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মিত্র কিংবা অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এবার তার জবাব আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন দেশটির সামরিক নীতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

তবে আকরামিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ ইরান আগাম হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়ার পরিসর মূল হামলার চেয়েও বড় হবে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০

আন্তর্জাতিক

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, […]

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।

ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।”

“যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০