বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের পৌর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশায় সয়লাব, স্থবির নাগরিক জীবন

আব্দুল্লাহ আল মামুন,টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ভাবে তৈরি হচ্ছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে শহরে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে অফিস টাইমে স্থবির হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাঘাট। ঘন্টার পর ঘণ্টা যান জটের কবলে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির […]

টাঙ্গাইলের পৌর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশায় সয়লাব, স্থবির নাগরিক জীবন

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২২ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৫৩

আব্দুল্লাহ আল মামুন,টাঙ্গাইলঃ

টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ভাবে তৈরি হচ্ছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে শহরে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এর ফলে অফিস টাইমে স্থবির হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাঘাট। ঘন্টার পর ঘণ্টা যান জটের কবলে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অফিস যাত্রী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা 

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, বিগত মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের সময়ে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে ৬ হাজার প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্স বাবদ ফি নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা।

এই লাইসেন্স প্যাডেল চালিত রিকশার জন্য দেওয়া হলেও পৌরসভার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বর্তমানে লাইসেন্স গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশায়। এটা পৌরসভার আইন অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূত। বিগত সময়ের মেয়র দায়িত্ব থাকাকালীন সময় থেকেই এভাবে চলছে বলে জানা যায়।

কিছু কিছু রিকশার মালিকরা একই নামে দশের অধিক লাইসেন্স নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ক্রয় করে চালকদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন।

পৌরসভার তালিকাভূক্ত ৬ হাজার রিকশা থাকলেও বাস্তবে শহরে এর ৩ থেকে ৪ গুন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এই রিকশাগুলো টাঙ্গাইলের অননুমোদিত মা-মটরস, বিসমিল্লাহ মটরস, একতা মটরসসহ আরো নামে-বেনামে ৩০টির অধিক অবৈধ কারখানা থেকে তৈরি হচ্ছে। 

এইসব কারখানার অধিকাংশ মিস্ত্রিদের কোন ধরনের কারিগরি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। শুধুমাত্র অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি এইসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। ফলে শহরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এইসব রিকশা গুলোর ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের দরকার হচ্ছে।‌ এর ফলে দিনদিন শহরে লোডশেডিং বাড়ছে।

সরজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক সড়কের চিলাবাড়ি এলাকায় মা-মটরস কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, তিনজন কারিগর ব্যাটারিচালিত রিকশার নতুন অনেক গুলো বডি তৈরি করছে।

এদের দুইজনকে মালিক রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ভাড়া করে এনেছে। এছাড়া একজন ১২ বছরের কিশোর কোনরকম নিরাপত্তা পোশাক না পড়েই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছে। তারা জানায়, প্রতিটি বডি তৈরি করলে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে ১ হাজার ২শত টাকা ও অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা করে মুজুরি পান।

এছাড়া থাকা-খাওয়া মালিকের মধ্যে। চিলাবাড়িতেই রয়েছে মা-মটরসের বিক্রয়ের শোরুম। শো রুমের সমানেই সড়কের অপর পাশে ঢাকা থেকে কারিগর এনেছেন রিকশার সিট ও সৌন্দর্য বর্ধনের হুড তৈরির জন্য। এছাড়া রিকশার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের নকশার কাজ করছেন স্থানীয় একজন কারিগর। 

মা-মটরসের মালিক দুলাল মিয়া এক সময় রিকশার মেকার হিসেবে টাঙ্গাইল শহরে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা দিয়েছেন।

তিনি জানান, এই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন ধরনের বৈধ অনুমোদন পত্র তার নেই এবং কোন ধরনের কারিগরি জ্ঞানও নেই। তিনি দীর্ঘদিন রিকশা মেরামত অথাৎ মেকারের কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই রিকশা তৈরির কারখানা করেছেন।

এমনকি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) টাঙ্গাইলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করার কোন অনুমোদন আছে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সে ব্যাপারেও না করেন। কোন ধরনের অনুমোদনের তোয়াক্কা করেন না বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরহাব হোসেন জানান, মা-মটরস নামের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা আমার ৬নং ওয়ার্ডে রয়েছে। তবে সরকারি ভাবে তাদের এই রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন কাগজপত্র আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। প্রয়োজনে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মিজানুর রহমান, জুয়েল রানা, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া, শিক্ষিকা সেলিনা হোসেন জানান, শহরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। এর সাথে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম্বার বিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা।

ফলে ব্যস্ততম সময়ে শহর এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া এই ধরনের রিকশা চলাকদের কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় যত্রতত্র রিকশা পার্কিং ও যাত্রী তোলার ফলে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তাহলে শহরে কিছুটা হলেও যানজট কমবে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) শাহীন মিয়া জানান, আমি টাঙ্গাইলে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাই এই ধরনের কোন রিকশা তৈরির কারখানার সন্ধান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মো. শিহাব রায়হান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোন ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। আর টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা মুক্ত শহর করতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

এছাড়াও এই অবৈধ রিকশা গুলো আটক করে ডাম্পিং করা যায় কিনা সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।