বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

দেশের শত্রুরা আবারও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের শত্রুরা আবারও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আজ আরও প্রাসঙ্গিক, কারণ সেই চেতনা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক। রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা শেষে […]

দেশের শত্রুরা আবারও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৬

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের শত্রুরা আবারও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আজ আরও প্রাসঙ্গিক, কারণ সেই চেতনা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “৭ নভেম্বর আমাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি জাতির ইতিহাসে এক মহান পুনর্জাগরণের দিন। যখন জাতি অনিশ্চয়তা ও হতাশায় ভুগছিল, তখন সৈনিক-জনতার ঐক্যে বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল।”

ফখরুল বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল সিপাহী-জনতার বিপ্লবের দিন। সেই দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। দেশের শত্রুরা তাকে বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে এনে জাতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের এক নতুন অধ্যায়।”

তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা নেতা। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশকে রক্ষা করেছিলেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ‘বটমলেস বাস্কেট’ থেকে উঠে দাঁড়ায়, হয়ে ওঠে এক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র।”

ফখরুল বলেন, “৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমানই প্রথম সাহসী সংস্কার শুরু করেন—দেশকে একদলীয় শাসন বাকশাল থেকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফেরান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং গঠন করেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। তার সময়েই গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা, প্রবাসী শ্রমবাজারের উন্মোচন এবং রেমিট্যান্সভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন হয়।”

তিনি আরও বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষিতে বিপ্লব, শিল্পোন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই জিয়াউর রহমান ছিলেন যুগান্তকারী নেতা। তার উদ্যোগেই খাল খনন কর্মসূচি, উচ্চফলনশীল বীজ আমদানি, সার ব্যবস্থার সংস্কার এবং তিন শিফটে শিল্প উৎপাদনের ব্যবস্থা চালু হয়। সেই সময় দেশের মানুষ এক কর্মযজ্ঞে মেতে উঠেছিল।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই জাতির ত্রাণকর্তা জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু তার আদর্শ, তার জাতীয়তাবাদ আজও জীবন্ত। তার দর্শন কখনো পরাজিত হয়নি, আর বিএনপিও পরাজিত হয়নি—বরং বারবার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশে দুর্নীতি, দমননীতি, ও একদলীয় শাসনের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ের বাকশাল ব্যবস্থাই আজ নতুন আকারে ফিরে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭৪ সালে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যায়। অথচ সেই ব্যর্থতার ইতিহাস এখন আবার পুনরাবৃত্ত হচ্ছে।”

ফখরুল বলেন, “৭ নভেম্বরের মতো ঐক্যের প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দেশের শত্রুরা শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও সক্রিয়। তারা গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চায়, মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। তাই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমান প্রবাস থেকে সেই ঐক্যের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতা আজও অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি আবারও জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাতে প্রস্তুত।”

বিএনপি মহাসচিবের মতে, “আজ সময় এসেছে জাতিকে পুনরায় জিয়ার দর্শনে ঐক্যবদ্ধ করার। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, এবং জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই—এই চেতনাই আমাদের মুক্তির পথ। যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের শত্রু, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াব।”

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৬

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৬

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪