সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুরে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ মেহেরপুরে বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত মিলমালিকের পরিবর্তে প্রভাবশালী মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা অধিকাংশ চাল সরবরাহ করছেন। এই সুযোগে খাদ্য কর্মকর্তা ও মিল মালিকেরা মিলে ভাঙ্গা ও নিম্নমানের চাল ক্রয় করে সংগ্রহ অভিযান শেষ করে। অধিদপ্তর বলছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:১০

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ

মেহেরপুরে বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত মিলমালিকের পরিবর্তে প্রভাবশালী মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা অধিকাংশ চাল সরবরাহ করছেন। এই সুযোগে খাদ্য কর্মকর্তা ও মিল মালিকেরা মিলে ভাঙ্গা ও নিম্নমানের চাল ক্রয় করে সংগ্রহ অভিযান শেষ করে।

অধিদপ্তর বলছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ কর্মসূচি গত ১৫ আগস্ট শেষ হয়েছে। এবার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন ধান (১০৭.৬৯%), ১৪ লাখ ৬ হাজার ৫৩৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল (১০০.৪৬%) এবং ৫১ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন আতপ চাল (১০২.২১%) সংগৃহীত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

গত ৯ এপ্রিল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে সাড়ে তিন লাখ টন ধান, ১৪ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও ৩৫ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে সংগ্রহ মূল্য ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল থেকে বোরো সংগ্রহ শুরু হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত বোরো মৌসুমে মেহেরপুরে ৪৯ টাকা দরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়। সদর উপজেলায় ৮জন মিল মালিকেরা কাছ থেকে ৬০৮ মেট্রিকটন, গাংনী উপজেলায় ৫জন মিল মালিকের কাছ থেকে ৩৮৮ মেট্রিকটন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদর খাদ্য গুদামের সরবারহকৃত ৬০৮ মেট্রিকটন সিদ্ধ চালের বেশিরভাগ ভাঙ্গা, বাদামি রং এর চাল। স্থানীয়রা যে চালকে চালের খুদ বলে। হাসঁ মুরগিকে চালের খুদ খেতে দেওয়া হয়। ৫০ কেজির বেশিরভাগ পাটের বস্তায় নিম্নমানের চাল পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার বড় বাজার এলাকায় খাদ্য গুদামের অবস্থান। গত রোববার সকাল ৯টায় গুদামে গিয়ে দেখা যায় গুদামের প্রতিটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বন্ধ রয়েছে। চলতি মাসে খাদ্য পরিদর্শক হিসাবে যোগদান করেছে সোহেল রানা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোরো মৌসুমের চাল সংগ্রহের সময় এখানে দায়িত্বে ছিলেন দেবদুত রায়। ভাঙ্গা অথবা নিম্নমানের চাল সংগ্রহের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

মুঠোফোনে সদর উপজেলার সাবেক খাদ্য পরিদর্শক দেবদুত রায় বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ধান সংগ্রহ করে মিল মালিকেরা চাউল তৈরি করবেন। এবং সেই চাল পরিস্কার করে গোদামে সরবারহ করবেন।

তবে মেহেরপুরে হাসকিঙ্ক মিলগুলোর চাউলের মান ভালো না হওয়ার কারণে মিলমালিকেরা আশে পাশের জেলার অটোরাইচ মিল থেকে চাল নিয়ে খাদ্য গোদামে সরবারহ করেন। প্রতি বস্তা চাল তো আর দেখে নেওয়া যায়না।

গাংনীর বামন্দী এলাকার কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ধান বিক্রি করতে গেলে কেউ নেয় না। পরে দেখি ওই ধানই চাল হয়ে সরকারি গুদামে ঢুকছে মিল মালিকদের নামে।

” স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, “সরকার কৃষকের স্বার্থে সংগ্রহ অভিযান চালালেও বাস্তবে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন। অনিয়ম বন্ধ না হলে এর পুরো সুফল মিল মালিকদের হাতেই চলে যাবে।”

নিয়ম অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে তা চুক্তিবদ্ধ মিলারদের মাধ্যমে চাল বানিয়ে সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ আছে, কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ধান না কিনেই সরাসরি নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে ধান ছাঁটাই, পরিবহন ব্যয়সহ ভালো চালের খরচ দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

গাংনী খাদ্য পরিদর্শক ওসি এলএসডি মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, গাংনী উপজেলায় মোট ৩৮৮ মেট্রিকটন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ভাঙ্গা চাল হলেও এই চাল খাওয়া যাবে। টিআর, কাবিখা, ওএমএস কার্যক্রমে বোরো মৌসুমের চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

সূত্রমতে, এবার বোরো মৌসুমে গাংনী উপজেলায় খাদ্যগুদামে ৫ মিল মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয়। মিলগুলো হলো, মেসার্স রাজ্জাক রাইচ মিল, দেলবার রাইচ মিল, সজিবুর রাইচ মিল, শহিদুল হক রাইচ মিল, খলিলুর রাইচ মিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মিল মালিক জানান, “কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে চাল সরবরাহ করা হয়। তারা মান যাচাইয়ে চোখ বন্ধ রাখেন।” উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক কেজি প্রতি কখনো ১ টাকা আবার কথনো ২ টাকা করে নেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এসব মিলে ধান থেকে চাউল তৈরি করা হয়না। তিনজন মিল মালিক জানেই না যে তাদের লাইসেন্সে সরকারি গুদামে চাল সরবারহ করা হয়েছে। জানতে চাইলে খলিলুর রাইচ মিলের মালিক খলিলুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন,

উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মিলে প্রকৃত মিল মালিকদের নামে চাল সরবারহ করে। এসব চাউল আসে কুষ্টিয়া কুমারখালির খাজা নগরে অবস্থিত অটো রাইচ মিল থেকে। সেখানে ভালো চালের সঙ্গে ভাঙ্গা চাল মিশ্রণ করা হয়।

গাংনী উপজেলার মড়কা বাজারের মেসার্স সজিবুর রাইচমিলের চালকলে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কাজকর্ম নেই। একজন কর্মচারী বসে আছেন। তিনি বললেন, এই মিলে আর তেমন কোন কাজ হয়না। গ্রামের কৃষকেরা নিজেদের বাড়ির জন্য ধান পিশায় করে চাল করিয়ে নেই। আর গম পিশায় করা হয়।

মালিক সজিবুর রহমান ছিলেন না। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনি সাংবাদিক আপনি জানেন না? কিভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা খাদ্য গুদামে চাল সরবারহ করে।

গত চার বছর থেকে আমার মিল থেকে ১ কেজি চালও দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমি কোন চাল সরবারহ করিনি। তাহলে কি করে আমারা লাইসেন্সে চাল গোদামে গেলো?

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আসমা বেগম বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাচঁ সদস্য বিষিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা গোদামে মজুদ চাউলের পরিক্ষা নিরিক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেবে। এর পর বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।