বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

আদালতের রায়ে গবিতে ফিরলেন রেজিস্ট্রার দেলোয়ার, শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা : পাঁচ বছর পর আবারও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে ফিরছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। আদালতের রায়ে তার অব্যাহতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা হওয়ায় তিনি আগের পদে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। তবে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান ছাড়াই ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয় তাকে। […]

আদালতের রায়ে গবিতে ফিরলেন রেজিস্ট্রার দেলোয়ার, শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ অক্টোবর ২০২৫, ২৩:২১

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা :

পাঁচ বছর পর আবারও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে ফিরছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। আদালতের রায়ে তার অব্যাহতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা হওয়ায় তিনি আগের পদে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। তবে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান ছাড়াই ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয় তাকে।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের আইনজীবিসহ উপস্থিত হন দেলোয়ার হোসেন। এ সময় একদল শিক্ষার্থী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। পরে তাদেরকে সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেনের কক্ষে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জমা দিতে যান তিনি।

এসময় দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেলোয়ার হোসেন বলেন, “যখন আমাকে অবৈধ ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় সাথে সাথে আমি হাইকোর্টে মামলা করি হাইকোর্টে আমাকে পাঠায় সাভার আঞ্চলিক আদালতে সেখানে ৪ বছর মামলা চলে।

এর মধ্যে এক বছর বিবাদি পক্ষ হাজিরাই দেয় নাই, মামলা চলতে থাকছে এর পর এক পাক্ষিক রায় হইছে আমি নেইনি। এর পর আরও একবার অর্ডার হয় আমি তাও নেইনি। পরে আমি জানাই অন্য পক্ষকে চিঠি দিতে কারেকশন করতে। 

আমি কনটেস্ট করতে চাই। তার পর কনটেস্ট করেছে। কিন্তু স্বাক্ষীর নাম দেয়ার পর আর স্বাক্ষী দেয়নি। ৫ বার বলেছে স্বাক্ষী দেয়ার কথা কেউই স্বাক্ষী দেয় নাই।”

তবে দেলোয়ার হোসেনের পুনর্বহালের খবরে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীদের আরেক অংশ। তাদের দাবি, আদালতে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য” উপস্থাপন করে রায় আদায় করেছেন দেলোয়ার হোসেন। তারা অভিযোগ তোলেন, “দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতিগ্রস্ত ও চরিত্রহীন”—এই অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কক্ষে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

‘লম্পটের গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘লম্পটের চামড়া, তুলে নিবো আমরা’, ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগানে স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রশাসনিক ভবন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে দেলোয়ার হোসেন ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

দেলোয়ার হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কৃষ্ণ বলেন, “রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘ ৫ বছর মামলা পরিচালনার পরে ০৮/১০/২৫ ইং তারিখে আদালত থেকে রায় পায়।

রায়ে উল্লেখ করা আছে তাকে যে ১২/০৯/২০ তারিখে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে (টার্মিনেট) তা অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ওইদিন থেকে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে বহাল আছে এবং ওইদিন থেকে এখন পর্যন্ত তার যত বেতন-ভাতা বকেয়া আছে সেগুলো পরিশোধ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।”

তিনি আরো জানান, “আজকে সে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ভিসি বরাবর আবেদন করে, ভিসি প্রথমে আবেদন গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে ছাত্র সংসদ ও সাধারণ ছাত্রদের চাপের মুখে তিনি বলেন আজকে না হোক কালকে বা পরশু গ্রহণ করবো এর পরেও যদি সে আবেদন গ্রহণ না করে তাহলে তিনি আমাদের আবেদনে লিখে দিবেন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তার পরে আমরা আবার আদালতে যাবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, “আমরা কোনো অস্থিতিশীল অবস্থা চাই না। সব কিছুরই একটা আইনি প্রক্রিয়া আছে। আইনি প্রক্রিয়ায় আসলে তার (দেলোয়ার হোসেন) কোনো বাঁধা থাকবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড আছে, আইন উপদেষ্টা আছে সে বিষয়গুলোও আমলে নিয়েই পুনর্বহাল হবে।”

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, “শিক্ষার্থীরা গ্রহণ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। পুনর্বহালের বিষয়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, ফলে আপাতত নথি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, দেলোয়ার হোসেন এর আগে দীর্ঘদিন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

পরে ২০২০ সালে প্রশাসনিক অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে দেলোয়ার হোসেনকে রেজিস্ট্রার পদ থেকে চাকরিচ্যুত করে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসন। পরে তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন এবং সম্প্রতি আদালতের রায়ে পুনর্বহাল হন।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।