বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

আদালতের রায়ে গবিতে ফিরলেন রেজিস্ট্রার দেলোয়ার, শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা : পাঁচ বছর পর আবারও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে ফিরছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। আদালতের রায়ে তার অব্যাহতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা হওয়ায় তিনি আগের পদে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। তবে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান ছাড়াই ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয় তাকে। […]

আদালতের রায়ে গবিতে ফিরলেন রেজিস্ট্রার দেলোয়ার, শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ অক্টোবর ২০২৫, ২৩:২১

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা :

পাঁচ বছর পর আবারও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে ফিরছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। আদালতের রায়ে তার অব্যাহতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা হওয়ায় তিনি আগের পদে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। তবে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান ছাড়াই ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয় তাকে।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের আইনজীবিসহ উপস্থিত হন দেলোয়ার হোসেন। এ সময় একদল শিক্ষার্থী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। পরে তাদেরকে সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেনের কক্ষে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জমা দিতে যান তিনি।

এসময় দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেলোয়ার হোসেন বলেন, “যখন আমাকে অবৈধ ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় সাথে সাথে আমি হাইকোর্টে মামলা করি হাইকোর্টে আমাকে পাঠায় সাভার আঞ্চলিক আদালতে সেখানে ৪ বছর মামলা চলে।

এর মধ্যে এক বছর বিবাদি পক্ষ হাজিরাই দেয় নাই, মামলা চলতে থাকছে এর পর এক পাক্ষিক রায় হইছে আমি নেইনি। এর পর আরও একবার অর্ডার হয় আমি তাও নেইনি। পরে আমি জানাই অন্য পক্ষকে চিঠি দিতে কারেকশন করতে। 

আমি কনটেস্ট করতে চাই। তার পর কনটেস্ট করেছে। কিন্তু স্বাক্ষীর নাম দেয়ার পর আর স্বাক্ষী দেয়নি। ৫ বার বলেছে স্বাক্ষী দেয়ার কথা কেউই স্বাক্ষী দেয় নাই।”

তবে দেলোয়ার হোসেনের পুনর্বহালের খবরে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীদের আরেক অংশ। তাদের দাবি, আদালতে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য” উপস্থাপন করে রায় আদায় করেছেন দেলোয়ার হোসেন। তারা অভিযোগ তোলেন, “দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতিগ্রস্ত ও চরিত্রহীন”—এই অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কক্ষে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

‘লম্পটের গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘লম্পটের চামড়া, তুলে নিবো আমরা’, ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগানে স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রশাসনিক ভবন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে দেলোয়ার হোসেন ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

দেলোয়ার হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কৃষ্ণ বলেন, “রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘ ৫ বছর মামলা পরিচালনার পরে ০৮/১০/২৫ ইং তারিখে আদালত থেকে রায় পায়।

রায়ে উল্লেখ করা আছে তাকে যে ১২/০৯/২০ তারিখে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে (টার্মিনেট) তা অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ওইদিন থেকে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে বহাল আছে এবং ওইদিন থেকে এখন পর্যন্ত তার যত বেতন-ভাতা বকেয়া আছে সেগুলো পরিশোধ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।”

তিনি আরো জানান, “আজকে সে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ভিসি বরাবর আবেদন করে, ভিসি প্রথমে আবেদন গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে ছাত্র সংসদ ও সাধারণ ছাত্রদের চাপের মুখে তিনি বলেন আজকে না হোক কালকে বা পরশু গ্রহণ করবো এর পরেও যদি সে আবেদন গ্রহণ না করে তাহলে তিনি আমাদের আবেদনে লিখে দিবেন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তার পরে আমরা আবার আদালতে যাবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, “আমরা কোনো অস্থিতিশীল অবস্থা চাই না। সব কিছুরই একটা আইনি প্রক্রিয়া আছে। আইনি প্রক্রিয়ায় আসলে তার (দেলোয়ার হোসেন) কোনো বাঁধা থাকবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড আছে, আইন উপদেষ্টা আছে সে বিষয়গুলোও আমলে নিয়েই পুনর্বহাল হবে।”

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, “শিক্ষার্থীরা গ্রহণ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। পুনর্বহালের বিষয়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, ফলে আপাতত নথি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, দেলোয়ার হোসেন এর আগে দীর্ঘদিন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

পরে ২০২০ সালে প্রশাসনিক অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে দেলোয়ার হোসেনকে রেজিস্ট্রার পদ থেকে চাকরিচ্যুত করে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসন। পরে তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন এবং সম্প্রতি আদালতের রায়ে পুনর্বহাল হন।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।