বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

আ.লীগ নেতাকর্মীদের হাসিনার নির্দেশ,নিউইয়র্ক থেকে কেউ যেন ‘অক্ষত ফিরতে না পারে’

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের সরাসরি আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হাসিনা এ নির্দেশনা দেন। দলের নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, কেউ যেন অক্ষত ফিরতে না পারে। হাসিনার নির্দেশনার পর বাংলাদেশে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ও […]

আ.লীগ নেতাকর্মীদের হাসিনার নির্দেশ,নিউইয়র্ক থেকে কেউ যেন ‘অক্ষত ফিরতে না পারে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের সরাসরি আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হাসিনা এ নির্দেশনা দেন। দলের নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, কেউ যেন অক্ষত ফিরতে না পারে।

হাসিনার নির্দেশনার পর বাংলাদেশে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতাদের হেনস্তার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ব্যাপক উপস্থিতি ঘটানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এদিকে গত বুধবার রাতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হোটেল লবিতে গিয়ে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন। আখতার এটিসহ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় একটি থানায় মামলা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ‘বিশেষ সুবিধা’ পেতে মানবাধিকারকর্মী পরিচয়ের আড়ালে ইতোমধ্যে বিদেশি নাগরিক ভাড়া করেছে। বিষয়টি নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল কার্যালয় ইতোমধ্যে অবহিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এদিন জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে পুস্তিকা বিতরণ করবে। অন্যদিকে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা দিয়েছে কনসাল জেনারেল কার্যালয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়ে কনসাল জেনারেল কার্যালয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়েছে।

‘একটাও যাতে অক্ষত ফিরতে না পারে’

স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুর ১টায় জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। ওই সময় তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। বর্তমানে তারা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সন্নিকটে হোটেল আল হায়াতে অবস্থান করছেন।

এদিন জাতিসংঘের সামনে ব্যাপক উপস্থিতি ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। তাদের সঙ্গে রয়েছে জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া দলের নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে আটটি ঘরোয়া বৈঠক করে এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও সভায় অংশ নেওয়া কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি আমার দেশকে জানান, প্রতিটি সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা হাসিনা ও তার ছেলে মার্কিন নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়। একটি সভায় হাসিনা প্রধান উপদেষ্টাসহ তার সফরসঙ্গী রাজনীতিকদের আক্রমণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ওরা কেউ যাতে অক্ষত যেতে না পারে; তোমরা সব ব্যবস্থা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মাধ্যমে অর্থের জোগান দিচ্ছেন জয়। জয় কিছুদিন আগে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেন।

জেকসন হাইটস এলাকায় দুদিন আগে হওয়া একটি সভায় উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক কর্মী আমার দেশকে জানান, বৈঠক শুরুর কিছু সময় পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ভিডিও কল করেন শেখ হাসিনার কাছে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের সফলভাবে হেনস্তা করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ দেন তিনি। সামনের কর্মসূচিগুলোও তিনি ওইদিনের মতোই সফল করতে বলেন। এ সময় হাসিনা বলেন, কোনোভাবেই কেউ যাতে অক্ষত ফিরতে না পারে, সে ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের ওই কর্মী আরো জানান, সভাটিতে সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আপত্তি করে তিনি বলেন, আইন ভাঙা যাবে না। আইনের ভেতরে থেকেই সর্বোচ্চটা করতে হবে। এ পর্যায়ে শেখ হাসিনা চিৎকার ও চেঁচামেচি করে ওঠেন। তিনি বলেন, ওদের (অন্তর্বর্তী সরকার) জন্য আবার দরদ কীসের? ওরা আইন দেখে আমাদের মারছে নাকি? ওরা তো আমাদের কিছুই আর বাকি রাখেনি। ওদের একটাকেও আমি ছাড়ব না। ওই সময় শেখ হাসিনার বক্তব্য ও আচরণ অসংলগ্ন ছিল।

বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎকণ্ঠা

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মহড়া দিচ্ছেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা। এতে অস্বস্তি বোধ করছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন। জেকসন হাইটস, জামেইকা ও এলমার্স্ট এলাকায় বসবাসকারী কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। আলাপের সময় তারা এ অস্বস্তি বোধ করার কথা জানান।

জামেইকার অধিবাসী ওয়ালিউল্লাহ পাটোয়ারী নিউ ইয়র্কে ফেডারেল সরকারের একজন কর্মকর্তা। আমার দেশকে তিনি বলেন, এখানে জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং এখন চাকরি করছি। আমার পূর্বপুরুষ, মানে বাবা-মা ও দাদা-দাদির দেশ বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের যে কোনো ঘটনা বা সংবাদের প্রতি একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকে। ভালো কোনো খবর খুব কমই কানে আসে। যা শুনি, সবই হতাশাজনক।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ঘিরে নিউ ইয়র্কে ব্যাপক আয়োজন থাকে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এখানে আসেন। এখানে বহু জাতি ও সংস্কৃতির লোক বসবাস করছে। কোনো দেশের নাগরিক এমন বিক্ষোভ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না, যেটা বাংলাদেশের নাগরিকরা করে থাকে। বাংলাদেশের বিষয়ে প্রতি বছরই নিউইয়র্ক প্রশাসনকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়। এটা আমার জন্য লজ্জা ও বেদনার।

এলমার্স্ট এলাকার অধিবাসী লোকমান হোসেন বলেন, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা আমাদের অন্য দেশের নাগরিকদের কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

হামলার ভিডিও ফুটেজ স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা

জন এফকে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাজেহাল ও গালিগালাজ এবং এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কনসাল জেনারেলকে ওইদিনই নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে বিষয়টি জানানোর পর তারা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল কার্যালয়ে সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আইন ও পদ্ধতি অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে কনসাল জেনারেলকে জানিয়েছে।

কনসাল জেনারেল কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, আমরা জানতে পেরেছি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকদেরও ভাড়া করেছে। তারাও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবে। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারের বিরুদ্ধে এবং জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে পুস্তিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। এগুলো জাতিসংঘের সামনে বিতরণ করবে তারা।

আ.লীগের সন্ত্রাস মোকাবিলায় বহুধাবিভক্ত বিএনপি

যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির অবস্থান ও সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সাত নেতার সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। সবার অভিন্ন কথা হচ্ছে, গত ১০ বছরেও এখানে বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বর্তমানে এখানে বিএনপি কমপক্ষে চারটি গ্রুপে বিভক্ত। যাদের বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা বরং বিভিন্ন উপদল তৈরি করে বিরোধ আরো তীব্র করছে। যার প্রমাণ মিলেছে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে না পারার মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এমন এক ব্যক্তিকে, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। তারা জানান, ওই নেতা বাস করেন যুক্তরাজ্যে। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার এক নেতা বলেন, আমাদের দলের মূল হলো বাংলাদেশে। সেখান থেকে স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্য দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে বাঁচাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির সোনালি অতীত ছিল। এখন অবস্থা একেবারে বাজে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৯

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৪

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৯

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৯