রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধি:
ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের বরগুনার আমতলী অংশটি যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে মৃত্যুফাঁদে। মাত্র ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশেই গত দুই বছরে ঘটেছে অর্ধশতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এলাকাবাসী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনার অভাব, সরু রাস্তা, অতিরিক্ত যানবাহন এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টরসহ অবৈধ যান চলাচল—এই চিত্র যেন প্রতিনিয়ত প্রাণ নিচ্ছে। সড়কজুড়ে বাঁক, যত্রতত্র অবৈধ বাজার, গাড়ির অযাচিত পার্কিং এবং অপ্রশস্ততা তৈরি করেছে ভয়ানক ঝুঁকি।
গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঘটখালী এলাকায় ছন্দা পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে নিহত করে প্রভাষক রেজাউল করিমকে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার সহযাত্রী আব্দুল হক মল্লিক। এর আগে ৬ মে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস পুকুরে পড়ে যায়। ১২ ফেব্রুয়ারি একই সড়কে বাস, থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত হন তিনজন।
বাসচালক হানিফ বলেন, “রাস্তায় যত্রতত্র দোকান ও বাজারের কারণে পথচারীরা সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ।” শ্যামলী পরিবহনের চালক রফিকুল বলেন, “অটোরিকশাগুলো হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে, তখন গতি নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়।”
একই রকম অভিজ্ঞতা জানিয়ে চালক সোহেল বলেন, “এই মহাসড়কে অনেক বাঁক রয়েছে যেগুলো রাতের অন্ধকারে বোঝা যায় না। প্রতিটি বাঁকে আলো বসানো উচিত।”
পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ জানায়, সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে বরগুনার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা এই বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “বাঁক ও বাজারের কারণে দ্রুতগামী যানবাহন বারবার গতি কমাতে বাধ্য হয়, ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
বরগুনা পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের অনুপস্থিতির কারণে আমাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে।”
পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটাগামী পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে, ফলে বাড়ছে যান চলাচলও। অথচ সড়কের উন্নয়ন হয়নি সে অনুপাতে। সড়কের উন্নয়ন না হলে এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলারসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।