অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, আমাদের যে জেনারেশন জি আছে, ইয়াং জেনারেশন যারা আছে, তাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। তিনি বলেন, আমি সব সময় বলি— আমরা বৃদ্ধরা ব্যর্থ হয়েছি, তারা (তরুণরা) আমাদের জন্য একটা বিজয় নিয়ে এসেছে। এটা কতবড় বীরত্ব!
বুধবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ ও জার্মান গবেষণা সংস্থা আর্নল্ড বের্গস্ট্রেসার ইনস্টিটিউট (এবিআই) আয়োজিত ‘জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তরুণরা জানতো, তারা মারা যেতে পারে। তারপরও তারা বুক পেতে দিয়েছে। এই সাহস, এই আত্মত্যাগ আমি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও দেখেছি—কিন্তু এত সংগঠিতভাবে, এত পরিণতভাবে এই প্রজন্ম দেখিয়েছে।”
তিনি শহীদ আবু সাঈদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সে জানতো সে মারা যাবে। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, সে প্রস্তুত ছিল। আবু সাঈদ শুধু নিজে সাহস দেখায়নি, তার মৃত্যু আরও তরুণকে অনুপ্রাণিত করেছে, শহীদ ওয়াসিমদের মতো আরও অনেকে রাজপথে নেমেছেন মৃত্যুর আশঙ্কা সত্ত্বেও।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে তারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পাস করানোর নামে বোর্ডগুলোতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, ভালো খাতা দেখা শিক্ষকরা চাকরি হারিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই—মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে যেন আর কেউ শিক্ষার মাধ্যমে উঠে আসতে না পারে।”
আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, “এই সরকার তাদের নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা করিয়েছে, বিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব দিয়েছে। অথচ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ধ্বংস করেছে যাতে সাধারণ মানুষ পেছনে পড়ে থাকে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বের্ন্ড স্প্যানিয়ার, শহীদ তানভীরের মা দিলকুশ জামান, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
এই সংলাপ ছিল শুধু রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ নয়, বরং একটি পরিবর্তনশীল প্রজন্মের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—যারা নিজের জীবন দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন নিশ্চিত করেছে।