বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নারীর কণ্ঠে প্রশ্ন, কোথায় আমাদের নিরাপত্তা?

নারী জাতি মানবসভ্যতার অর্ধেক, সৃষ্টির ধারক ও বাহক। নারী ছাড়া পৃথিবী যেমন অপূর্ণ, তেমনি নারী ছাড়া মানবজাতির অস্তিত্বও অসম্ভব। অথচ এই নারীকেই আজ চারপাশে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়- সে কি নিরাপদ? রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি নিজ ঘরেও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে গভীর শঙ্কা। যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা- এই শব্দগুলো যেন প্রতিনিয়ত নারীদের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ জুলাই ২০২৫, ২০:২১

নারী জাতি মানবসভ্যতার অর্ধেক, সৃষ্টির ধারক ও বাহক। নারী ছাড়া পৃথিবী যেমন অপূর্ণ, তেমনি নারী ছাড়া মানবজাতির অস্তিত্বও অসম্ভব।

অথচ এই নারীকেই আজ চারপাশে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়- সে কি নিরাপদ? রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি নিজ ঘরেও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে গভীর শঙ্কা।

যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা- এই শব্দগুলো যেন প্রতিনিয়ত নারীদের জীবনের বাস্তবতা হয়ে উঠছে। নারীরা আজ ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন, আত্মরক্ষার কৌশল শিখে চলেন, তবুও  নেই স্বস্তি।

এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা কী ভাবছেন? কীভাবে দেখছেন এই সংকটকে? সেই ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন সানজিদা খানম ঊর্মি।

“সম্মান, শিক্ষা ও শাস্তি- এই হোক নিরাপদ সমাজের মূলভিত্তি”

তানিয়া আহমেদ, প্রভাষক, ফার্মেসী বিভাগ।

আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক ভোরের, যেদিন আমার কন্যাশিশু রাস্তায় বেরিয়ে যাবে নিজের ইচ্ছায়, নিজের মতো করে, ভয় ছাড়াই। কিন্তু বাস্তবতা এমন যে, আজ নারীরা দিনের আলোতেও অনিরাপদ। আমরা ভুলে যাই- নারীও মানুষ।

তাকে মেয়ে, স্ত্রী বা মা হিসেবে নয়- মানবিক মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। এই পরিবর্তন আনতে হবে পারিবারিক পর্যায় থেকেই। শিশুদের শিখাতে হবে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান এবং সহানুভূতি। আর অপরাধীদের জন্য থাকতে হবে ভয়াবহ শাস্তির দৃষ্টান্ত।

শুধু নারী দিবসে ফুল হাতে ছবি তুলে কিছু হবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সচেতনতা বাড়ানোই পারে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো- কার্যকর ও সাহসী সামাজিক পরিবর্তন।

“দশভুজা নারীর জন্য চাই নিরাপত্তার সীমানা”

তিথি হক, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ।

নারী মানেই মমতা, ধৈর্য, শ্রম আর ভালোবাসার আরেক নাম। ঘরের কাজ হোক কিংবা বাইরের দায়িত্ব নারী সমান দক্ষতায় সব সামলান। অথচ তাঁকেই আজ ভাবতে হয়, বাসা থেকে বের হলে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষা করবেন। আমার ছাত্রীদের বলি, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কী ভাবো?

কেউ বলে ব্যাগে সেফটিপিন রাখি, কেউ পেপার স্প্রে। কেউ ইউটিউবে আত্মরক্ষার ভিডিও দেখে। সন্ধ্যার পরে বের হলে একা বের হই না। এই উত্তরগুলো আমার হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়। কারণ এই ভয় নারীদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে।

এই বাস্তবতা বদলাতে হলে প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা। স্কুলে গুড টাচ–ব্যাড টাচ শেখাতে হবে, আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, রাষ্ট্রকে শুধু আইন বানালেই চলবে না-সেটির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আর আমরা সবাই পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -আমাদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে শিখলে তবেই নারী নিরাপত্তার বাস্তব রূপ আমরা দেখতে পারব।

“নারীর জন্য নিরাপদ দেশ গড়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার”

ফারজানা আক্তার, ১ম বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ।

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে- শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো সবখানেই অগ্রগতি দৃশ্যমান। কিন্তু নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা এখনও ভীষণ পিছিয়ে। পত্রিকার পাতায় প্রতিদিন ধর্ষণ কিংবা নিপীড়নের খবর পড়ে আমরা স্তব্ধ হই, আতঙ্কিত হই, কিন্তু কতটুকু পরিবর্তন হয়?

একবার আমিও এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। সেই সময়টায় আমি ভেঙে পড়িনি, বরং শিখেছি কীভাবে নিজেকে সুরক্ষা দিতে হয়। আত্মরক্ষার প্রাথমিক কৌশল শিখেছি, আশপাশের নারীদেরও সচেতন করেছি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন সবসময় নারীকেই এসব ভাবতে হয়? কেন রাষ্ট্র, সমাজ বা প্রশাসন নারীর সুরক্ষায় সক্রিয় নয়? আমরা চাই আইনের সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ হোক, পুলিশ-প্রশাসন ও আদালতে যেন নারী সম্মান পায়।

বিচার হোক জনসম্মুখে, দৃষ্টান্তমূলকভাবে। নারী যেন আতঙ্ক নয়, সাহস নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে, পথ চলতে পারে—সেই সমাজ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

“ভয় নয়, চাই কার্যকর বিচার ও নিরাপত্তা”

আফরা, ৩য় বর্ষ, আইন বিভাগ।

আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে অপরাধীরা বারবার সুযোগ পায়, আর ভুক্তভোগীরা কাঁদে চোখের সামনে ন্যায়বিচার দেখা তাদের ভাগ্যে জোটে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে সবচেয়ে বেশি।

ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের পরও বহু ঘটনা চেপে যায়, নতুবা বিচার হতে হতে বছর কেটে যায়। অথচ নারীদের চলাফেরা, পোশাক, সামাজিক ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে বারবার। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ নয়, নিশ্চিত হবে।

অপরাধী শাস্তি পাবে। এটাই হবে স্বাভাবিক চিত্র। রাষ্ট্র যদি চায় নারীর অধিকার রক্ষা করতে, তবে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে, দৃঢ়ভাবে বিচারের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের আইনের পাশাপাশি চাই শক্তিশালী সামাজিক সচেতনতা ও সমষ্টিগত উদ্যোগ।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা। রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ […]

মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা তার প্রতিবাদের কথা জানান। তিনি লেখেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা নস্যাতের পরিকল্পিত চক্রান্ত শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের আস্থা নষ্ট করছে। কথা বলা বা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে যেসব শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ প্রতিবাদ করেছেন।

পোস্টে তিনি আরও জানান, সেদিন ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ নির্ধারণ করেছেন। অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কী করা যাবে বা যাবে না এবং মতবিরোধ তৈরি হলে তা কীভাবে নিরসন করা হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এরপর পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থাকেন।

শিক্ষকদের অধিকার ও একাডেমিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে সামিনা লুৎফা ইংরেজিতে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘শিক্ষকদেরও অধিকার আছে।’ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং প্রশ্ন, ভিন্নমত বা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হয়রানি করে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে সংহতি জানান তিনি।

নিজের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন, অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল সংবাদ প্রকাশ এবং অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে ধারণ করা নিয়েও আপত্তি জানান এ অধ্যাপক। তার ভাষ্য, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কোনো আচরণ বা আলোচনা নিয়ে একাডেমিক পরিসরে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মতের অমিল থাকলেও পরস্পরের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সহাবস্থান করা গ্রহণযোগ্য আচরণ।

পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য হতে চান না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সামিনা লুৎফা। একই স্বাধীনতা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা করেন তিনি। নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের ধরন যতই নিন্দনীয় হোক, তিনি ভয় পান না।

পোস্টে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের পাশাপাশি লায়েকা বশীরসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সুস্থ আলোচনা, মতবিনিময় ও নিজ নিজ বিষয়ে গভীরতর জ্ঞান অর্জনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ‘রিক্লেইম ক্লাসরুম’ বা শ্রেণিকক্ষের অধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে আলোচনাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর ৮ অক্টোবর জরুরি সভা ডেকে তাসনিম সিরাজকে বিভাগের সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।