সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য খবর

গাজায় খাবারের পরিবর্তে মৃত্যু বিতরণ; খালি পেটের লোকদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তা এজেন্টরা

গাজায় ক্ষুধা চরমে পৌঁছেছে, মানুষ খাদ্যের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, অবশ্যই শিশুরা এর প্রধান শিকারৃে পরিণত হয়েছে। চরম দুর্বলতা থেকে অজ্ঞান হয়ে গাজার রাস্তায় পড়ে থাকা একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে,এবং সবাই খাওয়ার জন্য এক টুকরো কিছু খুঁজছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা যখন খাবার খুঁজতে যায় তখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটছে না। বুধবার […]

গাজায় খাবারের পরিবর্তে মৃত্যু বিতরণ; খালি পেটের লোকদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তা এজেন্টরা

গাজায় খাবারের পরিবর্তে মৃত্যু বিতরণ; খালি পেটের লোকদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তা এজেন্টরা

নিউজ ডেস্ক

২৬ জুলাই ২০২৫, ১০:৩৬

গাজায় ক্ষুধা চরমে পৌঁছেছে, মানুষ খাদ্যের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, অবশ্যই শিশুরা এর প্রধান শিকারৃে পরিণত হয়েছে। চরম দুর্বলতা থেকে অজ্ঞান হয়ে গাজার রাস্তায় পড়ে থাকা একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে,এবং সবাই খাওয়ার জন্য এক টুকরো কিছু খুঁজছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা যখন খাবার খুঁজতে যায় তখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটছে না। বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস ঘোষণা করেছে যে গত মে মাস থেকে গাজায় খাবার গ্রহণের সময় দখলদার বাহিনীর হাতে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি সরকার সমর্থিত আমেরিকান সাহায্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে। এই অপরাধের মধ্যে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্বারা গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা এই উপত্যকায় গণহত্যার ইন্ধন জোগানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি প্রচেষ্টার আরেকটি নমুনা। এই বিষয়ে ইরনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একজন মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে মার্কিন সৈন্যরা গাজার সাহায্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

ওই ব্যক্তি যার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তিনি বলেছেন যে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে সাহায্য চাইতে আসা ফিলিস্তিনিদের গুলি করে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে,আমেরিকান সৈন্য বলেছেন যে ত্রাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা গাজার বাসিন্দাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাদের ঝুঁকিতে ফেলেন।

২৫ বছর ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত তিনি আরও বলেন যে তিনি নিজের চোখে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মাটি থেকে খাবার সংগ্রহকারী একজন ফিলিস্তিনিকে মরিচ স্প্রে করতে দেখেছেন,যদিও ফিলিস্তিনি মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য কোনও হুমকি ছিলেন না।

মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, অন্য একটি ঘটনায়, একটি স্টান গ্রেনেড সরাসরি একজন ফিলিস্তিনি মহিলাকে আঘাত করে যার ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

মৃত্যু অঞ্চলে খাবারের সন্ধানে

এদিকে, ক্ষুধার রাজনীতি প্রকাশের অভিযানের একজন কর্মী “মোহাম্মদ আল-সিকলি” আল-আলম নিউজ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদককে বলেছেন: একবিংশ শতাব্দীতে, গাজায় যে ক্ষুধা গ্রাস করেছে তাতে আমরা অবাক। তীব্র ক্ষুধা এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই দুর্ভিক্ষের ফলে কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গাজার মানুষ, যার মধ্যে নারী, বৃদ্ধ এবং শিশু রয়েছে, খাদ্যের অভাবে রাস্তায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে এবং শিশু, মহিলা এবং বৃদ্ধদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টি দেখা দিচ্ছে। ক্ষুধার কারণে শিশুরা ঘুমাতে পারছে না এবং বৃদ্ধ এবং তরুণরা বাজারে মারা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “মানুষকে এমন এলাকায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে যেখানে ইহুদিবাদী সামরিক বাহিনী খাবার পেতে মোতায়েন রয়েছে তাই সর্বোত্তম পরিস্থিতিতে তারা শহীদ হন অথবা আহত হন।”

ঘাস থেকে রুটি এবং পশুখাদ্য

গাজায় আল জাজিরার সংবাদদাতা তারিক আবু আসসুম আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী যিনি বলেছেন যে মায়েরা তাদের বাচ্চাদের জন্য রুটির মতো কিছু তৈরি করার জন্য শুকনো শস্য, পশুখাদ্য এবং এমনকি ঘাস পিষে নিচ্ছেন; এগুলি এমন চিত্র যা একটি নীরব কিন্তু মারাত্মক বিপর্যয়ের কথা বলে। তিনি আরও বলেন, আমি মায়েদের তাদের বাচ্চাদের জন্য রুটি তৈরির জন্য শিম এবং পশুখাদ্য পিষতে দেখেছি। গাজার বাসিন্দারা বলছেন যে যা ঘটছে তা কেবল একটি মানবিক সংকট নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষকে অনাহারে রাখার জন্য ইসরায়েলের সামরিক নীতির সরাসরি ফলাফল।

গাজায় মানুষকে শিকার

গাজার মেয়র ফার্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেন: ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবারের জন্য কিলোমিটার দূরে হেঁটে যেতে বাধ্য করছে; কিন্তু খাবারের পরিবর্তে,তাদের ইসরায়েলি গুলি করা হচ্ছে। এটি এখন কেবল অবরোধ নয়; এটি একটি মানুষকে শিকার করার কেন্দ্র পরিণত হয়েছে।

শরীরে কেবল “চামড়া ও হাড়” দৃশ্যমান

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের একজন ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবক সার্জন ড. নিক মেইনার্ড আরও বলেন, ‘গাজার মানুষের,বিশেষ করে শিশুদের পরিস্থিতি খুবই অমানবিক এবং বিপর্যয়কর। ক্ষুধার কারণে এই এলাকার শিশুরা তাদের বয়সের তুলনায় অনেক ছোট দেখায়; এমনকি তারা কেবল ‘চামড়া ও হাড়’ বলেও বলা বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক বর্ণনা নয়।

সূত্র: পার্সটুডে

অন্যান্য খবর

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে লেখা হয় ‘সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুথু দে’। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলের দেয়াল ছেয়ে গেছে ‘একটা একটা […]

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে লেখা হয় ‘সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুথু দে’। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলের দেয়াল ছেয়ে গেছে ‘একটা একটা গুপ্ত ধর, ধইরা ধইরা প্যাকেট কর’, ‘গুপ্ত কট’, ‘গুপ্ত সন্ত্রাস’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে। এছাড়াও ডাস্টবিনগুলোতে লেখা হয়েছে ‘আমি গুপ্ত’, ‘গুপ্তদের এখানে রাখুন’।

ছাত্রদল নেতাদের মতে, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড রুখতেই তাদের এই উদ্যোগ। শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সারা বাংলাদেশে চলমান এই পরিস্থিতিতে গুপ্ত শিবিরেরা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে গুপ্ত হয়ে আছে।

আমরা চাই বাংলাদেশে এই গুপ্ত বাহিনী নিপাত যাক এবং সাধারণভাবে মানুষের সাথে মিশে প্রয়োজনে রাজনীতি করুক। এই ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন কাউকে পাওয়া গেলে, শক্ত হাতে দমন করবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মামুন সরকার জানান, ৫ আগস্টের পর একটা পক্ষের দাবি ছিলো রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থী নাম ব্যবহার করে তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করতে হলে ওপেনে করুক। ইতিবাচক হলেও গোপনে কোনো রাজনীতি হয় না। আমরা আজকে থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে গুপ্ত রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করছি। গুপ্তদের ঠিকানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হবে না।

ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য সরকার বলেন, আমরা আদর্শবাদী রাজনীতির ধারাকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেয়াল লিখন করেছি। এই বাংলাদেশে কখনো গুপ্ত রাজনীতি এবং রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলতে দেয়া যাবে না। আমরা দেয়ালে লিখেছি ‘দড়ি ধরে মারো টান, গুপ্ত যাবে পাকিস্তান’।

নজরুলের এই বিদ্রোহী ক্যাম্পাস থেকে আমরা সকল ধরনের গুপ্ত রাজনীতি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপতৎপরতা আর চলতে দেয়া যাবে না। এই ধরনের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

অন্যান্য খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে […]

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার জীবিত বা মৃত অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে নিখোঁজ ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন-এর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি জোরদার করেছে এবং স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অন্যান্য খবর

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন। হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে […]

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

নিউজ ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।

হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে শেয়ার করা কোনো বাসায় তার থাকা উচিত ছিল না।

আহমদ আরও বলেন, ও (হিশাম) যে রুমমেটদের সঙ্গে থাকত, তা আমি জানতাম না। ওর হয় একা থাকা উচিত ছিল, না হয় গৃহহীন হয়ে পথে থাকা উচিত ছিল।

২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ তার রুমমেট জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টি (২৭) হত্যার ঘটনায় দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি খুনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় গত রোববার মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যদিও সেগুলো এখনো বৃষ্টির কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, টাম্পা বে-র ওপর অবস্থিত হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর বা তার কাছাকাছি এলাকায় উভয়ের মরদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।

হিশামের ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ জানান, গত শুক্রবার সকালে হিশাম হঠাৎ তাদের বাড়িতে হাজির হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তিনিও ফোনদাতাদের একজন ছিলেন।

আহমদ বলেন, সে খুবই অদ্ভুত আচরণ করছিল, তাই তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমি পুলিশ ডাকি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে হিশাম আবুঘারবিয়েহের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

হিশাম আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। ঘটনার দিন লিভিং রুমে হিশামকে কেবল তোয়ালে পরা অবস্থায় ভিডিও গেম খেলতে দেখেন তার ছোট বোন। ওই সময় ছোট বোন এর প্রতিবাদ জানালে হিশাম তার দিকে এগিয়ে যান এবং চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

গত শুক্রবার বেশ নাটকীয়ভাবে হিশাম আবুঘারবিয়েহকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা যখন তাকে ঘিরে ধরেন, তখন তিনি কেবল একটি তোয়ালে পরা অবস্থায় হাত তুলে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন হিশামের ভাই আহমদ। এতে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারছি না। আমার খুবই খারাপ লাগছে। যা ঘটেছে তার জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এবং আমার পুরো পরিবার প্রচন্ড লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছি।

আহমদ আবুঘারবিয়েহ আরও বলেন, আমরা অতীতেও পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে হিশাম আবুঘারবিয়েহের বিরুদ্ধে দুইবার সুরক্ষামূলক আদেশের (প্রোটেক্টিভ অর্ডার) আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের আবেদনটি মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।

২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ করার সময় বিচারক উল্লেখ করেন যে, শারীরিক লাঞ্ছনার (ব্যাটারি) ফৌজদারি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়নি, তাই এই অনুরোধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

আহমদ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ নিয়ে তিনি আর সামনে এগোননি।

তিনি বলেন, আমি অভিযোগ তুলে নিয়েছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল এতে অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরপরই আমি অনুতপ্ত হয়েছিলাম।

২০২৩ সালের সেই সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদনের একটি কপি সিবিএস নিউজের হাতে এসেছে। সেখানে আহমদ লিখেছিলেন, তার ভাই তাকে কয়েকবার ঘুষি মেরেছিলেন ও শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি লেখেন, এতে আমার রক্তপাত হয় এবং মুখে কালশিটে পড়ে যায়। আমি পুলিশকে ফোন করতে বাইরে গেলে সে পরিবারের মিনিভ্যানটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ হবে না বুঝতে পেরে সে আবার ফিরে আসে।

অন্য এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ছোট ভাই অভিযোগ করেন, হিশাম তার মায়ের সঙ্গে সামান্য তর্কের পর পুরো বসার ঘর (লিভিং রুম) তছনছ করে ফেলেছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই ‘মাঝরাতে চিৎকার করে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করতেন এবং বলতেন যে আমাদের সবার উচিত তার সামনে মাথা নত করা।

হিশাম আবুঘারবিয়েহ পক্ষে লড়ছে হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের অফিস। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি এই মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। তবে পেশাগত নৈতিকতা এবং আমাদের মক্কেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়েই আমরা বর্তমানে মনোনিবেশ করছি।

আহমদ আবুঘারবিয়েহের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানিয়েছে, হিশাম আবুঘারবিয়েহ সমাজের জন্য এখনো এক বড় হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিনহীনভাবে কারাগারে রাখা উচিত।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। তারা সত্য জানার জন্য যে অপেক্ষা করছেন, আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি।

এদিকে সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।