শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

স্বাস্থ্য

বাংলাদেশি রোগীদের টানতে নতুন প্রতিযোগিতায় থাইল্যান্ড, ইরান ও মালয়েশিয়া

বাংলাদেশি রোগী ধরতে বিশেষ চিকিৎসা ছাড় দিচ্ছে এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ চীন। দেশটির ইউনান প্রদেশের চারটি শীর্ষ পর্যায়ের হাসপাতালকে বিশেষভাবে বাংলাদেশি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তবে শুধু চীনই নয়, বাংলাদেশি রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে আগ্রহী থাইল্যান্ড, ইরান ও মালয়েশিয়াও। চীনের সুবিধা নিতে খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চিকিৎসক সমাজ বলছেন, […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১৫:৪৯

বাংলাদেশি রোগী ধরতে বিশেষ চিকিৎসা ছাড় দিচ্ছে এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ চীন। দেশটির ইউনান প্রদেশের চারটি শীর্ষ পর্যায়ের হাসপাতালকে বিশেষভাবে বাংলাদেশি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তবে শুধু চীনই নয়, বাংলাদেশি রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে আগ্রহী থাইল্যান্ড, ইরান ও মালয়েশিয়াও।

চীনের সুবিধা নিতে খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চিকিৎসক সমাজ বলছেন, উন্নত ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসায় দেশে পাঁচটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, একটি সুপার স্পেশালাইজড ও ২০টির মতো বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। এরপরও বছরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন।

প্রতিবছর তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলার চিকিৎসার জন্য চলে যাচ্ছে বিদেশে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাইরের দেশকে মেডিকেল সুবিধা না দিয়ে নিজেদের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ছে। রোগীদের আস্থা ফেরাতে হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ, নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে অত্যাধুনিক পরীক্ষা সরঞ্জাম স্থাপন করে কমমূল্যে সেবা দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উষ্ণ সম্পর্কের জেরে দেশটি মেডিকেল ট্যুরিজমের টার্গেট পূরণ করত বাংলাদেশি রোগীদের মাধ্যমে। বিত্তশালী রোগীদের বড় একটি অংশ ভারতের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু দেশে যাচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দেশটির ভিসার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। মেডিকেল ভিসা সীমিতভাবে দেওয়া হচ্ছে। ভারতের ভিসা জটিলতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, চীন ও ভুটান থেকে চিকিৎসক এনে সেবা দিয়েছে। ৩৮ জনকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশে পাঠিয়েছে।

এদিকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে চিকিৎসা খরচ ভারতের তুলনায় বেশি হওয়ায় সাধারণ রোগীদের জন্য আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বিকল্প হিসাবে চীনকে বেছে নিচ্ছেন। চীন অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাজার ধরতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। ভারতে বাংলাদেশিদের চিকিৎসার দরজা সীমিত হওয়ায় চায়না মেডিকেল ট্যুরিজম সুযোগ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে চীন সরকার দেশটির কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল এবং ইউনান ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল বাংলাদেশিদের সব ধরনের চিকিৎসা দেবে বলে জানিয়েছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসাবে ফু-ওয়াই কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতাল এবং ইউনান ক্যানসার হাসপাতাল ডেডিকেটেড ঘোষণা করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, চীনের ওই চার হাসপাতালে স্থানীয় লোকজন যে ফি পরিশোধ করেন বাংলাদেশি রোগীরা একই ফি পরিশোধ করবেন। গত মাসে কয়েক ডজন বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য কুনমিং ভ্রমণ করেছেন। যাত্রীদের বিমান টিকিটের উচ্চমূল্যের সমস্যা সমাধানে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম থেকে কুনমিং রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। ঢাকার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও ঢাকা-কুনমিং রুটে ফ্লাইটের টিকিটের ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এপ্রিলে বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকদের বড় একটি দলকে কুনমিংয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখতে পাঠানো হবে।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে যান। সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিকমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে চীন সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। চীন রাজি হয়েছে। খুব শিগগির এ হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সেবা দিতে বাংলাদেশে চিকিৎসক টিম পাঠিয়েছিল চীন। এবার আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে রিহ্যাবিলিটেশন ও রোবটিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন করতে সহায়তা করবে দেশটি। রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেন্টার স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে গেছে। দগ্ধ মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায়ও চীনের অনুদানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ন ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হবে ২৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার অনুদান হিসাবে দেবে ১৮০ কোটি টাকা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

ভারতের পর বাংলাদেশ থেকে বেশি রোগী যায় থাইল্যান্ডে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে থাই এয়ারওয়েজ। যাত্রীদের চাপ এড়াতে থাইল্যান্ড ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশিদের ই-ভিসা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান, মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের রোগীদের নিয়ে মেডিকেল ট্যুরিজম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা যুগান্তরকে বলছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বে মেডিকেল ট্যুরিজমের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের। মেডিকেল ট্যুরিজমের ৪০ শতাংশ হয় এশিয়ার দেশগুলোতে। যার এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। দেশটির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাজার বাংলাদেশের রোগী নিয়ে। ভারতের দুয়ার বন্ধ হওয়ায় চীন সুযোগ নিচ্ছে। সরকারও তা দিচ্ছে। দিনশেষে এটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি রোগীদের অনাস্থা আরও বাড়তে পারে। রোগীদের বিদেশমুখিতা ঠেকাতে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও চিকিৎসা অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব যুগান্তরকে বলেন, দেশে সাধারণ রোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু বড় অসংক্রামক রোগ যেমন ক্যানসার, নিউরোলজি ও ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন কঠিন হচ্ছে। আধুনিক ডায়াগনোসিস কঠিন হচ্ছে। সরকার এটিতে গুরুত্ব না দিয়ে বাইরের দেশে সুযোগ সৃষ্টি করলে সাধারণ মানুষের লাভ হবে না। বাইরে চিকিৎসা করাতে গেলে ৩০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হয়। তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ রয়েছে। যাদের চিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিকায়ন করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ জরুরি। সরকারের উচিত আজই কাজ শুরু করা। কোনো দেশ যদি জনহিতকর উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে সেটা নেওয়া যেতে পারে। তবে নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।

স্বাস্থ্য

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর […]

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর বেশির ভাগ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বেডের তুলনায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। হাম রোগীর চিকিৎসাসেবা সামাল দিতে গিয়ে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে এ বছর ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, ২৬০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ সহস্রাধিক রোগী। এর মধ্যেই হাম রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন হাম ও ডেঙ্গু রোগী আসছে। এ সব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অধিকাংশ ডাক্তার ও নার্স কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। বিরামহীনভাবে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭২৯ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন। এক সপ্তাহে বেশ কয়েক জন ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেলেও অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তালিকায় তাদের নাম নেই।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, রাজধানীর বাসিন্দাদের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশা বংশবিস্তার হচ্ছে। এই মশা কামড়ালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হবে বলে কীটতত্ত্ববিদরা জানান। গত বছর দেশ জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে বরগুনা জেলাকে শনাক্ত করা হয়। গত বছর গ্রাম অঞ্চলে এডিস মশার বংশবিস্তারে ভয়াবহ পরিস্থিতি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিল। অধিকাংশ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

আইইডিসিআরের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, দেশব্যাপী এডিস মশা বংশবিস্তারে ঘনত্ব নির্ণয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে হবে। এ বছর গ্রাম অঞ্চলের ব্যাপক হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এডিস মশার নিধন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

রাজশাহী নগরীতে এডিস মশা প্রজনন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকি সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, রাজধানী বাসিন্দাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এ বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মশক নিধন কার্যক্রম এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোস্তাক হোসেনও গ্রামাঞ্চলের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একই মতামত পোষণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান বলেন, ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এডিস মশা নিধন নিয়ে একাধিক বার বৈঠক করেছেন। মশক নিধনে যা যা করণীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় নীরব ঘাতক। এই বিষাক্ত বাতাসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রাণহানির পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষমতা, কমছে উৎপাদনশীলতা এবং প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের […]

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় নীরব ঘাতক। এই বিষাক্ত বাতাসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন।

প্রাণহানির পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষমতা, কমছে উৎপাদনশীলতা এবং প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট।

সম্প্রতি ইউনিটের একটি গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল- এই ছয়টি প্রধান শহরের পিএম২.৫ বা সূক্ষ্ম বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণার ফল বলছে, শুধু এই ছয়টি শহরেই বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে পিএম২.৫ দূষণের কারণে। অর্থাৎ প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন প্রাণ হারাচ্ছেন বায়ুদূষণের প্রভাবে।

এই দূষণের অর্থনৈতিক মূল্যও কম নয়।

গবেষকদের হিসাবে, বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় পাঁচ শতাংশের সমান।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন হৃদরোগে- প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন।

এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে প্রতি বছর।

শহরভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকায় বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ মানুষের অকালমৃত্যু পিএম২.৫ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।

গবেষণায় ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ঢাকায়, যেখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে পিএম২.৫ দূষণের কারণে।

গবেষকদের মতে, এটি নগরাঞ্চলের বায়ুমানের দ্রুত অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গবেষক দলের প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, এটি একই সঙ্গে একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট। বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় পাঁচ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতি আরও বাড়বে।’

তবে গবেষণাটি আশার কথাও বলছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুর গুণগত মান নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এ জন্য তারা পিএম২.৫ নির্গমন কমাতে প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ, শিল্প ও যানবাহনসহ বিভিন্ন দূষণ উৎস নিয়ন্ত্রণ, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।