মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

দলে বিশৃঙ্খলা রোধে অ্যাকশনে তারেক রহমান

শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজপথে সোচ্চার ছিল বিএনপি। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্দোলন-সংগ্রামের নানা ধাপ পেরিয়ে গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগসহ অনেকের আশঙ্কা ছিল, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশে […]

নিউজ ডেস্ক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১৭

শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজপথে সোচ্চার ছিল বিএনপি। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্দোলন-সংগ্রামের নানা ধাপ পেরিয়ে গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগসহ অনেকের আশঙ্কা ছিল, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কেউ কেউ ধারণা করেছিল দখল, চাঁদাবাজি ও প্রতিশোধমূলক হিংস্রতায় মেতে উঠবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে হাইকমান্ডের কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক মাত্রায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তার পরও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। তবে যার বা যাদের বিরুদ্ধেই বিশৃঙ্খলা বা দখলদারিত্বে জড়িত থাকার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা পেয়েছেন, তাদের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই মধ্যে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দুষ্কৃতকারীদের আইনের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়ে অঘোষিতভাবে সারা দেশে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। প্রতিদিনই বক্তব্যে নতুনত্ব ও একের পর এক বাস্তবমুখী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে ৩ জেলায় সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তার এসব পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সহায়ক বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর তাদের সেই ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারত। কিন্তু তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীল রাজনীতির কারণে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধারণ করেন।
একই সঙ্গে দেশজুড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীশূন্য দেশে পাড়া-মহল্লায় পাহারা দিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানের সেই ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তারেক রহমানের এসব পদক্ষেপকে স্মার্ট অ্যাকশন মনে করছেন। তার প্রতিটি অ্যাকশন যেন স্মার্ট ও সময়োপযোগী। এক কথায় বিএনপিকে তিনি গণমানুষের দলে পরিণত করেছেন। তার বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য শেয়ার করছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এসব পদক্ষেপ ও নেতৃত্বের দক্ষতা যেন তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেরই প্রতিচ্ছবি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বলেন, ‘যারাই বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নৈরাজ্য ও অসাংগঠনিক কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৫ আগস্টের পর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একাধিকবার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহায়তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তার নির্দেশে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বাতিল করে কর্মসূচির খরচের টাকা বন্যার্তদের জন্য দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তিনি ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন এমনকি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছেন। তারেক রহমানের এসব ত্বরিত পদক্ষেপ ও নেতৃত্বগুণ তার স্মার্ট অ্যাকশন এবং তার পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানেরই প্রতিচ্ছবি।’
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না মর্মে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে অসাধারণ, সময়োপযোগী, পরিপক্ব আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বক্তব্য আলোচিত হয়। চায়ের দোকান থেকে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের আলোচনায় তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সবাই।
তারেক রহমানের যত স্মার্ট অ্যাকশন: গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই তাৎক্ষণিক বিজয় বার্তায় তারেক রহমান দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য শেখ হাসিনা ১৫ বছর ধরে হাজারো মানুষকে গুম, খুন ও অপহরণ করেছেন। হামলা চালিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়া করেছেন। শেখ হাসিনার অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়নে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ। এ কারণেই গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালানোর পর নির্যাতিত-নিপীড়িতদের কারও কারও আচরণে হয়তো ক্ষোভের মারাত্মক বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। আমি খবর পেয়েছি, দেশের কোথাও কোথাও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী, কেউ সংখ্যালঘু নয়। আমাদের সবার একটাই পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। সুতরাং ব্যক্তি হিসেবে কারও প্রতি কোনো ক্ষোভ থাকলে প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নিন। কিন্তু আপনারা কেউ নিজ হাতে আইন তুলে নেবেন না। অনুগ্রহ করে কেউ প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসাপরায়ণ হবেন না।’
এরপর গত ৭ আগস্ট ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার রক্তঝরা বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের সম্পদ ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষার জন্য নেতাকর্মীসহ সবাইকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ১১ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিনের পদ স্থগিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে বরিশাল নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বিরোধ রয়েছে, এমন একটি পুকুর ভরাট করার পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ ওঠে। সরকার পরিবর্তনের পর টানা চার রাত ট্রাক দিয়ে বালু এনে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে পুকুর দখল করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দারা। তবে বিলকিস জাহান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত ২১ আগস্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হলে ফরিদপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের পদ স্থগিত করা হয়। বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। কয়েকটি জেলায় নতুনভাবে কমিটি দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। গত ২৯ আগস্ট রংপুর বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হয়। সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আবারও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের পরিকল্পনার কথা পুনরায় জানান।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বাতিল করে বিএনপি। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য যেসব টাকা খরচ হতো, সেই টাকা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ দেয় দলটি। এর পরই কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ত্রাণ কমিটি গঠন ও ত্রাণ সংগ্রহ কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া দখল-চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন বাচ্চুকে দল থেকে বহিষ্কার করাসহ ত্রাণ ফান্ডে দেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত দেয় বিএনপি। পরে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে মামলাও করা হয়। অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় ঢাকার কলাবাগান থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদককে বহিষ্কার ও তার বিরুদ্ধে দলীয় মামলা করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন স্থানে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়া, ১১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির সমাবেশ এবং গত মঙ্গলবার ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি সেদিন জোর দিয়ে বলেছেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে, লাখো কোটি জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের কোনো কোনো কার্যক্রম সবার কাছে হয়তো সাফল্য হিসেবে বিবেচিত না-ও হতে পারে। কিন্তু এই সরকারের ব্যর্থতা হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা। বাংলাদেশের পক্ষের গণতন্ত্রকামী জনগণের ব্যর্থতা। এটি আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে। সুতরাং এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’
এ ছাড়া এই সময়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা, চাঁদাবাজি ও অপকর্মে জড়িত থাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীকে শোকজ-বহিষ্কার ও মামলা দায়ের এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং অসংখ্য আহতকে চিকিৎসাসেবা প্রদান।
জানা গেছে, তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেল এবং দলের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে সহস্রাধিক মানুষকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘মাস খানেক ধরে তারেক রহমানের প্রতিটি অ্যাকশন স্মার্ট ও সময়োপযোগী মনে হয়েছে। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও গতিশীল করতে এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে তার নেতৃত্বের খুবই প্রয়োজন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তারেক রহমানের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে দেশবাসী তার রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমার দেখা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তারেক রহমানের চিন্তা, চেতনা বা ভাবনার ধারে কাছেও কেউ নেই। তিনি যে ইতিবাচক ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু করেছেন, তার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণ পাবে।’
বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমানে নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি বলেন, ‘এখন জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। আওয়ামী প্রেতাত্মারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজিসহ নৈরাজ্য করছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সবার উচিত সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানো।’
এই সপ্তাহে ৩ জেলায় সমাবেশ: এদিকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন তারেক রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সিরাজগঞ্জে, ২৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান  বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ও দেশের কল্যাণে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সমাবেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর হবে, ইতোমধ্যে সমাজে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক হাটে-মাঠে-ময়দানে পরস্পরের সঙ্গে ইতিবাচক প্রশংসা করছেন। আগামীকাল শনিবার সিরাজগঞ্জ, সোমবার কিশোরগঞ্জ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ জেলায় গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।’
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম গতকাল বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদ হওয়া ২০টি পরিবারকে সম্মানিত করার পাশাপাশি অঙ্গহানি হওয়া নেতাদেরও সম্মাননা দেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জের পুরোনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় সমাবেশের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ জানান, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ঝিনাইদহের সাব্বির ও প্রকৌশলী রাকিব হত্যার বিচার দাবিতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য হবে। সেখানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা তুলে দেওয়া হবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছে লাখো মানুষ।’
১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৪২২

রাজনীতি

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি বৈঠক, বিকেলে সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি বৈঠক আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। দলের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সোমবার সকাল ১০টায় বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক পর্ষদের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। […]

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি বৈঠক, বিকেলে সংবাদ সম্মেলন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি বৈঠক আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

দলের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সোমবার সকাল ১০টায় বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক পর্ষদের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে দলটি। এতে সংবিধান সংশোধনী কমিটি, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর, বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫৬০

রাজনীতি

‘সরকার স্টেপ নেওয়া শুরু করেছে,এটা গুড সাইন, পত্রিকায় নাম আসা হামলাকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে’: আসিফ মাহমুদ

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় সরকার পদক্ষেপকে ‘গুড সাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। এর কিছুক্ষণ আগেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় বিএনপির দলের সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এরপরই প্রতিক্রিয়া […]

‘সরকার স্টেপ নেওয়া শুরু করেছে,এটা গুড সাইন, পত্রিকায় নাম আসা হামলাকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে’: আসিফ মাহমুদ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৭

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় সরকার পদক্ষেপকে ‘গুড সাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

এর কিছুক্ষণ আগেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় বিএনপির দলের সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এরপরই প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ।

স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় সরকার স্টেপ নেওয়া শুরু করেছে, এটা গুড সাইন। তবে যেহেতু এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ সেহেতু আইনের শাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে জড়িত সবাই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও লেখেন, ‘হামলায় সরাসরি জড়িত এমন যাদের নাম পত্রিকায় এসেছে তাদের অনেককেই আমরা অন্য আরেকজন সংরক্ষিত এমপির সাথে পরবর্তীতেও ঘটনাস্থলে প্রেসের সামনে আসতে দেখেছি। তাদেরকেও যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’a

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫৬০

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৪২২