রাশিমুল হক রিমন আমতলী প্রতিনিধি:
জুলাই অভ্যুত্থানের নৃশংসতার চিত্রগুলো বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। বুক পেতে মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়া আবু সাইদ, সাঁজোয়া যান থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে দেওয়া ইয়ামীন, রিকশার পা-দানিতে থাকা নাফিজ, গুলিবিদ্ধ ফাইয়াজকে রিকশায় নিয়ে যাওয়া উৎকণ্ঠিত সহযোদ্ধা—এই দৃশ্যগুলো জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া বীভৎস নিষ্ঠুরতার কিছু খণ্ডচিত্র মাত্র, যেগুলো আমাদের শিউরে তুলেছে বারবার।
পানি লাগবে কারো পানি, পানি লাগলে নেন, টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় চোখে কিছুই দেখছে না, চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়ছে তবুও থামেনি, পানি পান করাতে ব্যস্ত ছিলেন মুগ্ধ। মুগ্ধ’র কথা মনে হলে দু চোখ জলে ভিজবে যে কাররই। কে জানত মুগ্ধ’র চোখ দিয়ে ঝরা পানির মতোই ঝরে যাবে তার প্রাণ। কাঁদবে পুরো দেশের মানুষ।
তেমনি আরেক বীর আবু সাঈদ। জাতির ক্রান্তিলগ্নে জাতিকে উদ্ধারে কোন না কোন একজন ক্ষণজন্মা বীর জন্ম নেন, আবু সাঈদ তেমনই একজন বীর। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে তার আত্মত্যাগ স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার জীবন বিলিয়ে দেওয়া আন্দোলনের গতিকে বদলে দিয়েছিল তুমুল ভাবে।
১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে বুক পেতে শহীদ হন আবু সাঈদ। সৃষ্টি করেন আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার এক অনন্য নজির,যা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের সাজোয়া যান থেকে ফেলে দেয় ইয়ামিনকে মনে আছে, ফেলে দেয়ার পরেও বেঁচে ছিল ইয়ামিন।
কি নির্মমভাবে টেনে হিচড়ে নেয়া হয়েছিল তাকে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৫৮১ জন শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটি।
আহত ৩১ হাজারের বেশি। নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ এবং দরিদ্র পরিবারের। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। আহতদের অনেকেই সুচিকিৎসা পাননি।২৪ এর বিজয় যাদের জন্য তারাই হাত, পা, চোখ, হারিয়ে কাঁদছেন নিরবে দিশেহারা পরিবারগুলো।