রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

বানিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ছে বাংলাদেশে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অবশ্য বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বাড়ার তথ্য দিলেও এর আর্থিক মূল্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. […]

নিউজ ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ১৫:০৮

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অবশ্য বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বাড়ার তথ্য দিলেও এর আর্থিক মূল্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইআইএর প্রতিবেদন বলছে, আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাস সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বেড়ে যায়। অক্টোবরে এ আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ে।
এর মধ্যে সম্প্রতি বছরে ৫০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করতে মার্কিন কোম্পানি আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে একটি নন-বাউন্ডিং চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন কোম্পানি থেকে এলএনজি কেনা বাড়লেও এটা ‘জিওপলিটিক্স’ হিসেবে দেখা যাবে না। এ মুহূর্তে বিশ্বে খোলা বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলো কম খরচে এলএনজি বিক্রি করছে। বাংলাদেশ সেই সুবিধা নিয়েছে বা নিচ্ছে। তবে সম্প্রতি মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে এলএনজি ক্রয়ে করা নন-বাইন্ডিং চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কোনো পদক্ষেপ নিলে বুঝতে হবে এখানে ‘জিওপলিটিক্স’ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে দেখতে হবে ব্যবসা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য যেন নষ্ট না হয়। খুব সতর্ক থাকতে হবে এক্ষেত্রে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর অর্থাৎ জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। অবশ্য একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষ বিধান বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর বিশ্বের খোলা বাজার থেকে দরপত্রের মাধ্যমে এলএনজি কেনা হয়। এক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোর দরই ছিল সবচেয়ে কম।

জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এ বিষয়ে কালবেলাকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মার্কিন এলএনজি আমদানি বাড়াটা স্বাভাবিক। কারণ গত বেশ কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক খোলা বাজারে (স্পট মার্কেটে) মার্কিন কোম্পানিগুলো কম দামে এলএনজি বিক্রি করছে। এখন কম দামের এলএনজি যদি পদ্ধতিগতভাবে কেনে, তাহলে কিছু বলার নেই। আগে বিশেষ আইনের আওতায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা হলেও এখন তো দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে।

এ ছাড়া এলএনজি কেনার জন্য কাতারের রাস লাফান লিকুইফাইড ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সাল এবং ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের সঙ্গে ২০১৮ সালে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। সরকারি পর্যায়ের এই দুই চুক্তির আওতায় কাতার ১৫ বছর এবং ওমান ১০ বছর বাংলাদেশের কাছে এলএনজি বিক্রি করবে।

মহেশখালীতে সামিটকে আরও একটি ল্যান্ডবেজ টার্মিনাল ও পায়রায় এক্সিলারেট এনার্জিকে একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের অনুমতিও দিয়েছিল হাসিনা সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলএনজি ব্যবসায় এ দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর একচেটিয়া ব্যবসা কমাতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই অংশ বিনা দরপত্রে সামিটকে দেওয়া দ্বিতীয় টার্মিনালের কাজ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ দায়মুক্তি আইনে দেওয়া লাইসেন্সটি গত ১৪ জানুয়ারি বাতিল করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এলএনজির সঙ্গে সই করা টার্মশিটও গত বছর ১৬ অক্টোবর বাতিল করা হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই দাম বাড়ায় এলএনজি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইকোনমিক ডেটার তথ্যমতে, গত বছর জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম ছিল ১০ দশমিক ০১৬৮। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৮২২৩ ডলার। তবে মে মাসে তা আবার ১০ ডলার ছাড়ায়। জুনে তা ১২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ে সামান্য কমলেও আগস্টে ১৩ ডলার ছাড়ায়। পরের দুই মাসও এ দাম ১৩ ডলারের ওপরই ছিল। নভেম্বরে তা ১৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এতে স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশের এলএনজি কেনার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতীয়

জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা […]

জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ১০:০২

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের অর্থনীতির আগামী এক বছরের রূপরেখা তুলে ধরতে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাজেট করতে হয়েছে। একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সব নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

বানিজ্য

চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট […]

চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৮

ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম।

আর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনৈতিক কাজের অনুমোদন দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৪টি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে এসব অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে বলেও দুদকে পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।