সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

টেবিলে বই, আলনায় কাপড় সবই আছে, নেই শুধু আমার ছেলেটা

বারবার হাত দিয়ে ধরে দেখছিলেন জিনিসগুলো। ছেলের স্মৃতি মনে করে বিলাপ করছিলেন অভাগা মা। আহাজারি করে বলছিলেন, ‘টেবিলে বই, আলনায় কাপড় সবই আছে, নেই শুধু আমার ছেলেটা।’ পড়ার টেবিলে সারি সারি বই রাখা। দেয়ালে টানানো রুটিন, ব্যাগটাও রাখা আছে টেবিলেই। চার্জার লাইট, মার্কার পেন আর ঘড়িটাও রয়েছে টেবিলের তাকে। পাশেই আলনায় রাখা আছে জামাকাপড়। সেগুলোতে […]

নিউজ ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৫

বারবার হাত দিয়ে ধরে দেখছিলেন জিনিসগুলো। ছেলের স্মৃতি মনে করে বিলাপ করছিলেন অভাগা মা। আহাজারি করে বলছিলেন, ‘টেবিলে বই, আলনায় কাপড় সবই আছে, নেই শুধু আমার ছেলেটা।’

পড়ার টেবিলে সারি সারি বই রাখা। দেয়ালে টানানো রুটিন, ব্যাগটাও রাখা আছে টেবিলেই। চার্জার লাইট, মার্কার পেন আর ঘড়িটাও রয়েছে টেবিলের তাকে। পাশেই আলনায় রাখা আছে জামাকাপড়। সেগুলোতে এখনো লেগে আছে গায়ের ঘ্রাণ। টেবিলে বসে অপলক তাকিয়ে ছিলেন সদ্য সন্তান হারানো এক বাবা।

সড়কে মদ্যপ চালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় নির্মমভাবে প্রাণ হারানো বুয়েট শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদের (২২) বাড়িতে এখন শুধুই চলছে মাতম আর আহাজারি। বাবা মাসুদ মিয়া এবং মা রাইসা সুলতানা যেন সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

গতকাল শনিবার মাসুদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পরপরই চিৎকার করে কেঁদে উঠছিলেন অভাগা এই বাবা-মা। স্বজন এবং মাসুদের সহপাঠীরা শুধুই জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন তাদের।

বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে বেপরোয়া প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হন বুয়েট শিক্ষার্থী মাসুদ (২২)। আহত হন নিহতের সহপাঠী অমিত সাহা (২২) ও মেহেদী হাসান (২২)।

তারা তিনজনই বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনার পর শুক্রবার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় মাসুদকে।

মুহতাসিম মাসুদের মা রাইসা সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, আমি তো এখন মরার মতো বেঁচে আছি। আল্লাহ আমার ছেলেকে এতটুকু আয়ু দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলে আরও আট থেকে ১০ জন ছিল, দুজন আহত হয়েছে। আমার ছেলেটাই শুধু চলে গেছে। আমার ছেলে এতটুকু হায়াত নিয়া আসছে। আমার সন্তান তো কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

আমার সন্তান এত গর্ব করার মতো ছিল, হয়তো ক্ষণজন্মা বলেই এত গর্ব করার মতো ছিল। যেই দেখত, সেই বলত, আপনার ছেলে এত লম্বা, এত সুন্দর। দেখতেও সুন্দর, আচরণেও সুন্দর আমার ছেলে। কেউ কোনো কিছু বললে, শত ব্যস্ততার মাঝেও তার কথাটা গুরুত্ব দিয়ে শুনত। কখনো বিরক্ত হতো না।

বাসায় আসা মাসুদের বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে শুধু চোখের পানি ফেলছিলেন এই অভাগী মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, তোমাদের বন্ধু তো আর আমার কাছে আসবে না রে। আর কোনোদিন আসবে না।

স্মৃতি হাতড়ে এই মা বলেন, জন্মের পর থেকে এই বুয়েট পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য আমাদের জীবনের যে কত ত্যাগ, কত কষ্ট! আমার সব কষ্ট আল্লাহ নিয়ে গেল। ছেলের স্কুলজীবন থেকে নিজের সঙ্গে রেখে ছেলেকে বড় করেছি। সকালে অফিস করেছি, বিকেলে এসে ছেলেকে কোচিংয়ে নিয়ে গেছি।

আবার রাতে পাশে বসে থেকে পড়িয়েছি, খাইয়ে দিয়েছি। আমার এত কষ্ট, এত ত্যাগ সব আজ শেষ হয়ে গেছে। এই বাসায় আর থাকতে পারব না। এই বাসার প্রতিটি কোণায় আমার ছেলের স্মৃতি। এই মনে হয় আমার ছেলে এসে আমাকে ডাক দেবে। এভাবে তো এখানে বাঁচতে পারব না। এই বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে যাব।

বাবা মাসুদ মিয়া জানান, বুয়েটে কনসার্ট ছিল। সেজন্য আমার মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিল। কথা ছিল ১১টার মধ্যেই চলে আসবে। তার মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় ১১টায়। তখন জানায় অনুষ্ঠান শেষ হয়নি, এজন্য আজ হলে থাকবে। এরপর কনসার্ট শেষ করে দুই বন্ধুকে নিয়ে ৩০০ ফিট যায় খাওয়ার জন্য।

এ সময় রাস্তায় পুলিশ আটকায় কাগজ দেখার জন্য। পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে দাঁড় না করিয়ে, রাস্তার মাঝখানেই দাঁড় করায়। যখন কাগজ দেখাচ্ছিল, তখন মদ্যপ অবস্থায় ওই চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি নিয়ে এসে তাদের ওপর তুলে দেয়। মুহতাসিম মাসুদের শুধু মুখ ছাড়া হাত-পায়ের সব হাড় ভেঙে যায়, মেরুদণ্ডের হাড়ও ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়।

বাবা মাসুদ মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার জীবনের সব শেষ। আমি কীভাবে বেঁচে থাকব জানি না। সব স্বপ্ন-আশা শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার সর্বোচ্চ বিচার চাই। যারা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। তারা যেন কোনোভাবেই পার না পেয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করেছি। সরকারের কাছে আমাদের একটা দাবি আছে। সেটি হচ্ছে, কবরের ওই জায়গাটুকু যেন আমার ছেলের জন্যই দেওয়া হয়। বেশি কিছু চাই না, ওই সাড়ে তিন হাত জায়গা নিয়েই বাঁচতে চাই।

এদিকে সহপাঠী নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার বিক্ষোভ মিছিলে প্রতিবাদমুখর ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। ‘আর নয় প্রাণহানি, সড়ক হতে হবে নিরাপদ’—এই দাবি উঠছে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার কণ্ঠে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। বরং চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে আমাদের এক সহপাঠীকে হত্যা করেছে এবং দুজনকে গুরুতর আহত করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আমরা কোনো ধরনের হুমকি পাইনি; কিন্তু সেটেলমেন্টের চেষ্টা করেছেন উনারা। সেটা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। তারা আরও বলেন, অভিযুক্তদের আইনজীবী গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এই হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে অপপ্রচারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।’

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থাকে একটি গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন; অপরাধী যে পরিবারেরই সদস্য হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, এ ব্যাপারটি ফের প্রতিষ্ঠিত হোক।

হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার অবশ্যই বিবাদীপক্ষকে বহন করতে হবে এবং নিহতের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।