জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতে এক নেতার পদায়নকে কেন্দ্র করে দলটির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন নাসির। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদের হত্যা মামলার আসামিকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করে এনসিপি সরাসরি শহীদের রক্ত ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সেক্রেটারি এমন মন্তব্য করেন।
ওই পোস্টে ছাত্রদল সেক্রেটারি লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার রক্তে ভেজা এক ঐতিহাসিক বিপ্লব। ফ্যাসিবাদবিরোধী সেই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে চট্টগ্রামের মাটিতে প্রথম শাহাদাত বরণ করেছিলেন ছাত্রদলের বীর সেনানী, আমাদের অহংকার শহীদ মো. ওয়াসিম আকরাম। তার সেই আত্মত্যাগ চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশের আপামর ছাত্র-জনতাকে রাজপথে নেমে আসার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জুগিয়েছিল।
তিনি আরও লেখেন, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শহীদের সেই রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একের পর এক বেইমানি ও ঘাতকদের পুনর্বাসনের খেলায় মেতে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের সূত্রে আমরা জানতে পারলাম, শহীদ ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এ কে এম জিয়াউদ্দিন, প্রকাশ্যে ‘জিয়া রনি’ নামে পরিচিত, তাকে এনসিপির সদ্যঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির ‘যুগ্ম আহ্বায়ক’ পদে আসীন করা হয়েছে!
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদের হত্যা মামলার আসামিকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করে এনসিপি সরাসরি শহীদের রক্ত ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করেছে। এহেন জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষাও আমাদের জানা নেই।
শেষে হুঁশিয়ার করে তিনি লেখেন, তবে, খুব পরিষ্কার করে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, অবিলম্বে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) এই হত্যা মামলার আসামির পদ বাতিল করতে হবে। অন্যথায়, শহীদ ভাইয়ের রক্তের আমানত ও মর্যাদা রক্ষা করতে ছাত্রদল কঠোর থেকে কঠোরতম সামাজিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।