মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

রাবিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক মিলিয়ে ৭৩ জন পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

রাবি প্রতিনিধি: এম এ আতিকুর রহমান  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ৬৭ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি গবেষণা ও প্রকাশনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয় শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিবিএ পর্যায়ের ২৮ জন এবং […]

রাবিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক মিলিয়ে ৭৩ জন পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৩১

রাবি প্রতিনিধি: এম এ আতিকুর রহমান 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ৬৭ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি গবেষণা ও প্রকাশনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয় শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিবিএ পর্যায়ের ২৮ জন এবং এমবিএ পর্যায়ের ৩৯ জন রয়েছেন।

অনুষদ সূত্রে জানা গেছে, বিবিএ পর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চারজন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তিনজন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২২ শিক্ষাবর্ষের চারজন, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ছয়জন ও ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের চারজন, ফাইন্যান্স বিভাগের একজন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কার পেয়েছেন।

অন্যদিকে এমবিএ পর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের নয়জন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছয়জন, মার্কেটিং বিভাগের ১২ জন, ফাইন্যান্স বিভাগের একজন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনসুরেন্স বিভাগের ছয়জন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

এদিকে তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষদের ছয় শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রকাশিত বই ও বইয়ের অধ্যায় ক্যাটাগরিতে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন। প্রকাশিত জার্নাল ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহানুদ্দীন, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ আজম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। শ্রেষ্ঠ গবেষক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম জিয়াউল হক।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনসুরেন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে নানা টানাপোড়েন, হতাশা, ত্যাগ ও অনেক গল্প রয়েছে। অত্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেছি। এখনো শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত নানা দিক থেকে এলাকাটি পিছিয়ে। সেই জায়গা থেকে এখানে আসা এবং এতদূর পৌঁছানো আমার জন্য সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন, কিন্তু শিক্ষার বিষয়ে তাঁদের উৎসাহ ছিল অসীম। আজকের এই আয়োজনে আমার বাবা-মা উপস্থিত আছেন। সন্তান হিসেবে তাঁদের সামনে এ সম্মাননা পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, সেশনজট কমানো এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে প্রশাসন কাজ করছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা ও প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ পুরস্কার শুধু একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবন ও কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরের অধ্যবসায় ও মেধার স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষার্থীরা আজ ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এ পুরস্কার তাঁদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তী কর্মজীবনে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। তাঁদের কর্ম ও সাফল্যের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নির্ভর করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এ পুরস্কার শুধু সম্মাননা নয়, বরং তাঁদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে যেখানেই থাকুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির পরিচালক ড. মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে এবার লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা এ প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও […]

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে এবার লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা এ প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে এসব আচরণের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’। শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব আচরণকে সমর্থনকারীদেরও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব ম্যাম ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নেকাব করায় তাকে Fundamentalist এবং সন্ত্রাসী বলে অবিহিত করেন। এছাড়াও, তিনি একই ক্লাসে ছেলেদের ৬ জন এক বেঞ্চে বসায় ‘গে’ এবং ‘গরিব’ বলে অবিহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ফেইসবুক লাইভে এগুলোর কোন কিছু এড্রেস না করে এক পাক্ষিক এআই নির্ভর বিবৃতি দেন৷

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক এবং তার অন্যান্য অনুসারী তাকে নির্লজ্জভাবে ডিফেন্ড করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মূল অপরাধী হিসেবে প্রোট্রে করার চেষ্টা করছেন। আজকের প্রতিকী প্রতিবাদ তাদের সকলের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না,আমি এই মূহুর্তে অফিসে নাই। তবে শিক্ষার্থীরা যদি এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকে, তবে তা দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।