ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষককে ‘আপাদমস্তক হিন্দুত্ববাদী’ বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের চিন্তা-চেতনায় ভারতীয় প্রভাব রয়েছে এবং তাঁরা এ দেশের মাটি ও মানুষকে ধারণ করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বুলিং বনাম একাডেমিক স্বাধীনতা: আরোপ ও অপরায়ণের রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক নামধারী মুসলমান হলেও তাঁদের চিন্তা-চেতনায় হিন্দুত্ববাদী প্রভাব রয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, এসব শিক্ষক মানসিকভাবে দিল্লি ও কলকাতাকেন্দ্রিক এবং বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের বাস্তবতাকে ধারণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, কোনো নারীকে বোরকা পরতে কিংবা কাউকে দাড়ি ও জুব্বা রাখতে দেখলে এসব শিক্ষক তা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। তাঁর দাবি, নামাজ পড়া বা হজ পালনের মতো ধর্মীয় পরিচয় থাকলেও তাঁদের চিন্তার কাঠামোয় হিন্দুত্ববাদী প্রভাব রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে গরুর মাংস বিক্রি না হওয়ার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন ফুয়াদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গরুর মাংস খেলেও ক্যান্টিনগুলোতে তা বিক্রি না হওয়া একটি কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন।
তাঁর ভাষায়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর মধ্যে হিন্দুত্ববাদী প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, বঙ্গভঙ্গ রদের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা ও আসামের দরিদ্র মুসলমান ও নমশূদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ফুয়াদ অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ তৎকালীন কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এর বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর দাবি, যে ঐতিহাসিক লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানে তার কাঠামোতে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী প্রভাব বিস্তার করেছে।সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি তাঁদের মনোভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়ে এসব সমালোচনা তুলে ধরেন।