মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। শনিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৮ম তলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৮ম তলায় অবস্থিত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে তোলা হয়।
আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হবে এমন খবর পেয়ে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তবে আদালতের নিচ থেকেই পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন। পরে সাংবাদিকরা সেখান থেকে ওপরে উঠতে পারলেও আদালতের প্রবেশপথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের আটকে দেন।
সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশের এক এসআই বলেন, ‘কোনো কথা বলবো না।’
এরই মধ্যে আদালতে আখতারুজ্জামানের রিমান্ড বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে শুনানিতে বক্তব্য দেন আখতারুজ্জামানও। শুনানি শেষে আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে এজলাস থেকে নামিয়ে নেয়া হয়।
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেয়ার বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শুনানি শেষে এ বিষয়ে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজকে ডিসি প্রসিকিউশন সাংবাদিক, আইনজীবীদের আদালত এবং আদালতের বারান্দায় ঢুকতে দেন নাই। এটা আমি মনে করি নিন্দনীয় ঘটনা। কোনো কিছু গোপন করার জন্য সাংবাদিকদের এমবারগো (বিধিনিষেধ) দিয়েছেন কি-না সেটাও আমি জানি না। আগামীতে যেন এভাবে না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, এত তাড়াতাড়ি কোনো মামলার শুনানিও হয় না। বন্ধের দিন সাধারণত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটায় শুনানি হয়।
প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আগে আদালতে আসার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, কেন তারা আদালতে আগে আসে এটা আমার বোধগম্য নয়।
শুনানিতে আখতারুজ্জামান সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাংবাদিকরা সেখানে থাকলে ভালো হতো।
তবে সাংবাদিকদের আদালতে ঢুকতে না দেয়ার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে ঢুকতে দেয়ার ব্যাপারে ডিসি প্রসিকিউশন কোনো বাধা দেয়নি।
তিনি বলেন, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। শুনানিতে আসামির যে মারমুখী অবস্থান। প্রসিকিউশন, বিচারক ও পুলিশের উপরে তার যে মারমুখী অবস্থা ছিল এবং সে নিজেই বলছে যে আইনজীবী ছাড়া যেন কেউ আদালতে না থাকে। মূলত তার এই বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেই বিচারক সবাইকে বের হতে বলেন।
এদিকে এজলাস থেকে বের হওয়ার পর স্টার নিউজের সাংবাদিক তসলিম হোসেন রনি ঘটনার বিষয়ে বলেন, তিনি আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার আগেই সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন এবং এজলাসে অবস্থান করছিলেন। পৌনে ১টার দিকে আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলা হলে ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এসে তাকে বাইরে যেতে বলেন।
তসলিম হোসেন রনি বলেন, আক্তারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার আগেই সাড়ে ১২টায় আদালতে আসি। আমি এজলাসে অবস্থান করি। আক্তারুজ্জামানকে পৌনে ১টার দিকে এজলাসে তোলা হয়। তখন ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এসে বলেন, আপনাকে বাইরে যেতে হবে। আদালতের ভেতরে থাকতে পারবেন না। কারণ জানতে চাইলে বলেন, এটা আদালতের আদেশ।
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।