শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

জীবন যুদ্ধে উপকূলের শিশুরা,বই খাতার বদলে হাতে জাল ও কাকড়া ধরার সরঞ্জাম

‎সাইফুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: ‎এক হাতে জাল, অন্য হাতে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম। সকাল হলেই ছুটতে হয় নদীর দিকে। কখন জোয়ার আসবে, কখন ভাটা নামবে—সেই হিসাব করেই কাটে দিন। নদীতে কাঁকড়া বা রেণুপোনা মিললে তা বিক্রি করে পরিবারের হাতে তুলে দিতে হয় টাকা। কারণ ঘরে খাবার নেই, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ আছে। বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে […]

জীবন যুদ্ধে উপকূলের শিশুরা,বই খাতার বদলে হাতে জাল ও কাকড়া ধরার সরঞ্জাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০০

‎সাইফুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:

‎এক হাতে জাল, অন্য হাতে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম। সকাল হলেই ছুটতে হয় নদীর দিকে। কখন জোয়ার আসবে, কখন ভাটা নামবে—সেই হিসাব করেই কাটে দিন। নদীতে কাঁকড়া বা রেণুপোনা মিললে তা বিক্রি করে পরিবারের হাতে তুলে দিতে হয় টাকা। কারণ ঘরে খাবার নেই, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ আছে। বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার চেয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই তাদের কাছে বড় দায়িত্ব।

‎এভাবেই শৈশব পার করছে খুলনার কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার অনেক শিশু।

‎কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর জোয়ার-ভাটার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এসব শিশুর জীবনে দারিদ্র্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও কর্মসংস্থানের সংকট। কোনো পরিবার ঘর হারাচ্ছে, কোনো পরিবারের জীবিকা নষ্ট হচ্ছে, আবার কোনো পরিবার দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় আটকে পড়ছে। সংকটের চাপে শিশুদেরও নামতে হচ্ছে জীবিকার কাজে।

ফলে যে বয়সে তাদের বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেই বয়সেই কারও হাতে উঠছে জাল, কারও হাতে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম। কেউ আবার নদী ও খাল থেকে রেণুপোনা সংগ্রহে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে স্কুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে তাদের।

গোবরা গ্রামের দুই ভাই যুবায়ের হোসেন ও সুমন হোসেনের গল্পটি এই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। দুজনই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু পরিবারের অভাব তাদের শৈশবকে অন্য পথে ঠেলে দিয়েছে।

তাদের বাবা অন্যত্র সংসার করায় অসুস্থ মায়ের সঙ্গে কষ্টে দিন কাটছে দুই ভাইয়ের। সংসারের খরচ ও মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে তারা নদীতে কাঁকড়া ধরে। প্রতিদিন শতাধিক কাঁকড়া সংগ্রহ করে অল্প দামে বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়েই চলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ।বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও জীবিকার তাগিদে নদীতে যেতে হচ্ছে তাদের।

একই এলাকার হাসান ও হোসেন দুই ভাইয়ের জীবনও প্রায় একই। বাবাকে হারানোর পর অসুস্থ মায়ের ভরসায় বড় হতে হচ্ছে তাদের। সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছে অল্প বয়সেই। পড়াশোনা ছেড়ে তাদের এখন জীবিকার চিন্তা করতে হচ্ছে ‎তাদের ভাষায়, ‘ঠিকমতো তিনবেলা খা

‎বারই জোটে না, স্কুলে যাব কীভাবে?’

উপকূলের বাঘ বিধবাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন আইসিডির সভাপতি আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, দারিদ্র্য, দুর্যোগ ও জীবিকার সংকটে উপকূলের অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হচ্ছে। এসব শিশুকে শিক্ষায় ধরে রাখতে পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

কয়রার উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে নদী ও সুন্দরবনের সঙ্গে জড়িত। কেউ নদীতে মাছ ধরেন, কেউ কাঁকড়া আহরণ করেন, কেউ সুন্দরবনে গিয়ে মাছ, মধু বা গোলপাতা সংগ্রহ করেন। এসব পরিবারের আয় অনেকটাই অনিশ্চিত।

জোয়ারের পানি বাড়লে নদীর চরিত্র বদলে যায়, ভাটায় আবার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। এই জোয়ার-ভাটার সঙ্গে পরিচিত হয় শিশুরাও ছোটবেলা থেকেই।

অনেক শিশুর কাছে দিনের হিসাব হয়—কখন নদীতে যেতে হবে, কখন জাল ফেলতে হবে, কখন কাঁকড়া পাওয়া যাবে, কখন তা বাজারে বিক্রি হবে।

শিশুদের কাছে স্কুলের ঘণ্টার চেয়ে নদীর জোয়ারের সময় কখনো কখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ নদী থেকে পাওয়া সামান্য আয়ই পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করে।

উপকূলের মানুষের জন্য ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস শুধু একটি দুর্যোগ নয়; এটি অনেক পরিবারের জন্য আবার নতুন করে শুরু করার লড়াই।

‎

‎ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি ঢুকলে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীভাঙনে কেউ হারান বসতভিটা। এসবের সরাসরি প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপর।

পরিবারের আয় কমে গেলে প্রথমে কমে যায় শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ। অনেক শিশু স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে পরিবারের কাজে যুক্ত হয়। কেউ কেউ স্থায়ীভাবেই শিক্ষার বাইরে চলে যায়।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে দুর্যোগের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার এই সম্পর্ক নতুন নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় শিক্ষা ব্যাহত হলে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উপকূলের শিশুদের আরেক বড় সংকট নিরাপদ পানি। লবণাক্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় সুপেয় পানির উৎস সংকুচিত হয়। দূরের উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে শিশুদেরও পরিবারের সঙ্গে পানি সংগ্রহে যেতে হয়।

দীর্ঘদিন লবণাক্ত ও জলাবদ্ধ পরিবেশে বসবাস, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি বাড়ে; আবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারকে আরও বেশি আয় করতে হয়। তৈরি হয় একটি দুষ্টচক্র—দারিদ্র্য থেকে শিশুশ্রম, শিশুশ্রম থেকে শিক্ষাঝরে পড়া, আর শিক্ষাঝরে পড়া থেকে ভবিষ্যতের দারিদ্র্য।

অভাবের সঙ্গে দুর্যোগ যুক্ত হলে মেয়েশিশুরাও ভিন্ন ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে। পরিবারের আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে কোথাও কোথাও অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

একবার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলে মেয়েদের শিক্ষায় ফেরার সুযোগও অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্যের চক্রে আটকে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু স্কুলে ভর্তি করানোই যথেষ্ট নয়। দরিদ্র পরিবারের আয়, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগের সময় শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং শিশুশ্রম বন্ধ—সবগুলো বিষয়কে একসঙ্গে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো, কয়রা উপজেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের অভাবে উপকূলের অনেক শিশু শিক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিশুদের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে শিশুদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। নদী ও সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোর বিকল্প কর্মসংস্থান এবং শিশুদের শিক্ষায় ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দরকার।

‎শিশুদের স্কুলে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট দূর করা না গেলে সেই উদ্যোগ টেকসই হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়রার মতো উপকূলীয় এলাকায় তাই শিশুদের জন্য আলাদা করে দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষা অবকাঠামো, দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি জরুরি।

একই সঙ্গে নদী ও সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোর শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে। কারণ শিশুর হাতে জাল তুলে দিয়ে হয়তো একটি দিনের খাবার জোগাড় করা যায়, কিন্তু কেড়ে নেওয়া হয় তার ভবিষ্যতের একটি বড় অংশ।

কয়রার নদীর পাড়ে এখনো সকাল হলে দেখা যায় ছোট ছোট শিশুকে জীবিকার সন্ধানে ছুটতে। কারও হাতে জাল, কারও হাতে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম। নদীর পানিতে নেমে তারা খুঁজে ফেরে দিনের আয়।

অথচ এই বয়সেই তাদের স্কুলে থাকার কথা। শ্রেণিকক্ষে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা। কেউ ডাক্তার হবে, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রকৌশলী—এমন স্বপ্ন দেখার অধিকার তাদেরও আছে।কিন্তু পেটের ক্ষুধা যখন বইয়ের পাতাকে হার মানায়, তখন স্বপ্নও হারিয়ে যায় বাস্তবতার কাছে।উপকূলের এই শিশুদের গল্প তাই শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়। এটি জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ, বৈষম্য, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার সম্মিলিত গল্প।

কয়রার নদীগুলো প্রতিদিন জোয়ারে ফুলে ওঠে, ভাটায় আবার নেমে যায়। কিন্তু এসব শিশুর জীবনে দারিদ্র্যের জোয়ার কখন নামবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যে শিশুর হাতে আজ কাঁকড়া ধরার ঝুড়ি, তার হাতেই কি কাল বই-খাতা ফিরিয়ে দেওয়া যাবে? উত্তরটি নির্ভর করছে রাষ্ট্র, সমাজ ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।