সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মাঝখানের দীর্ঘদিনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দেয়াল পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে। মধ্যস্বত্বভোগী আর দালালের হাতে জিম্মি না থেকে এখন সরাসরি সংসদ সদস্যের দরবারে নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও দাবির কথা পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা। সংসদ সদস্য জি এম সিরাজের এই যুগান্তকারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মwww.gmsirajmp.com’ চালু হওয়ার পর থেকেই সমগ্র বগুড়া-৫ আসনে যেন বইছে এক নতুন আমেজ ও পরিবর্তনের হাওয়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক, স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ জবাবদিহিমূলক জনসেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া এই আইটি-ভিত্তিক উদ্যোগটি চালুর পর থেকেই দুই উপজেলার হাজারো মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও আগ্রহ।
দীর্ঘদিনের জমে থাকা নাগরিক সমস্যা, রাস্তার বেহাল দশা, কিংবা প্রশাসনিক স্তরে অনিয়ম কোনো কিছুর জন্যই এখন আর কাউকে জেলা বা উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে না। ঘরে বসে হাতের স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারের বোতাম টিপেই মুহূর্তের মধ্যে মনের কথা পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি এমপির হাতে।
সুশাসন ও নাগরিক ক্ষমতায়নে ‘ডিজিটাল বিপ্লব’
ওয়েবসাইটটি পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ নাগরিকরা যাতে একদম নিভৃতে ও নির্বিঘ্নে যেকোনো ঘুষ, দুর্নীতি, বা উন্নয়ন-বঞ্চিত এলাকার করুণ চিত্র তুলে ধরতে পারেন সেভাবেই অত্যন্ত সহজ ও আধুনিক কাঠামোয় প্ল্যাটফর্মটি ডিজাইন করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে কেবল নির্ধারিত ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও প্রয়োজনীয় তথ্য সাবমিট করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে এমপি জি এম সিরাজের বিশেষ মনিটরিং সেলে। আর দ্রুততম সময়ে সেখান থেকে গুরুত্ব ও জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এক প্ল্যাটফর্মে যে তিন বড় সেবা:
দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: এলাকার যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য গোপনীয়তা বজায় রেখে সরাসরি জানানোর সুব্যবস্থা।
সরাসরি উন্নয়ন দাবি ও পরিকল্পনা: নিজ এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র সরাসরি তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম।
স্মার্ট উপজেলা ও নাগরিক পরামর্শ: তরুণ সমাজ, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের মানুষের মতামত নিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা ও আধুনিক উপজেলা গড়ে তোলার সুযোগ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সত্যিকারের ক্ষমতায়িত করার ক্ষেত্রে এটি এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের এই সরাসরি অনলাইন মেলবন্ধন একদিকে যেমন ঘুষ-দুর্নীতি কমাবে, অন্যদিকে সরকারি কাজ ও নাগরিক সেবায় ফিরিয়ে আনবে নিখাদ স্বচ্ছতা।
‘