যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) মাসব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে ছিলো মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, ইনোভেশন শোকেস, গবেষণা সম্মেলন ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
মাসব্যাপী চলা এ কর্মসূচির গ্রান্ড সেলিব্রেশন “ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোবায়োলজি ডে গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন” অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার। এতে থাকবে র্যালি, বৃক্ষরোপণ ও বায়োফার্টিলাইজার প্রদর্শনী, ইনোভেশন শোকেস, মাইক্রোবস ডিসকভারি কর্নার, এছাড়া এদিন মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস উপলক্ষে ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক রাউন্ড ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সবিষয়ক সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস এবং যবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে যশোরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।
মাসব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘নেক্সটজেন মাইক্রোবায়োলজি ২—ইমার্জিং হরাইজনস ইন মাইক্রোবায়োলজি’ শীর্ষক সম্মেলন। এতে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি বিভাগ থেকে প্রায় ২২৫ জন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে তিনটি সমান্তরাল সেশনে বিষয়ভিত্তিক ২১টি গবেষণার মৌখিক উপস্থাপনা এবং ৯০টি পোস্টার উপস্থাপনা থাকবে। পাশাপাশি তিনজন দেশবরেণ্য গবেষক তাদের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দেবেন।
সম্মেলন-পরবর্তী সময়ে ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুটি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এর মধ্যে ২৭–২৮ সেপ্টেম্বর ‘অ্যাডভান্সড মাইক্রোস্কোপি’ এবং ২৯–৩০ সেপ্টেম্বর ‘অ্যাডভান্সড মলিকুলার টেকনিকস’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ ও জিনোম সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালা দুটি আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী এ কর্মসূচি বিজ্ঞানশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি সম্মিলিত উদ্যোগ।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের অণুজীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।