র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের সমালোচনা করেছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তার দাবি, নতুন বাহিনীতে র্যাবের জনবল, কার্যালয়, সম্পদ, নথিপত্র, ক্ষমতা ও দায়-দায়িত্ব হস্তান্তরের বিধান থাকায় কার্যত শুধু নাম পরিবর্তন হচ্ছে। বিষয়টিকে তিনি ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাজিবুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ২০১৯ সালেও তিনি র্যাবকে ‘ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে একই দাবি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এসআরবি বিলে র্যাবের জনবল, কার্যালয়, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি এবং দায়-দায়িত্ব নতুন বাহিনীতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলের ২৭ ধারার প্রসঙ্গ তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, এতে কার্যত শুধু সাইনবোর্ড পরিবর্তন হচ্ছে। র্যাবের নাম ছাড়া বাকি কাঠামো একই থেকে যাচ্ছে। এ কারণেই তিনি একে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ বলে মন্তব্য করেন।
পুরোনো কাঠামো বহাল থাকলে র্যাবের বিরুদ্ধে থাকা গুমসহ বিভিন্ন অভিযোগের মামলা ও তদন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
এসআরবির জবাবদিহির ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন তিনি। নাজিবুর রহমান বলেন, নতুন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের কমিটির চেয়ারম্যান হবেন এসআরবিরই একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন একজন পরিচালক। অর্থাৎ যে বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে, সেই বাহিনীর কর্মকর্তারাই অভিযোগ দেখবেন।
তিনি বলেন, পুলিশের কোনো ইউনিটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু এসআরবির ক্ষেত্রে সেই ধরনের স্বাধীন তদারকি রাখা হয়নি।
নাজিবুর রহমান জানান, তাদের প্রস্তাব ছিল এসআরবির বাইরের স্বাধীন ব্যক্তিদের হাতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি, ফৌজদারি আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এসব আপত্তি লিখিতভাবে সংসদীয় কমিটির কাছে জানানো হলেও বিলের মূল কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরে নাজিবুর রহমান বলেন, একটি দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের বিরোধিতা করছে না জামায়াত। তবে বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা যথাযথ না করে শুধু নাম ও সাইনবোর্ড পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ পাস হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ করা বিলটি নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাবের পর কণ্ঠভোটে তা পাস করা হয়।