ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবারের এ হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেন বলছে, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় এ হামলা চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামলার পর কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্র থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, যে ভবনে এসবিইউ প্রধানের কার্যালয় রয়েছে, রুশ ড্রোনটি সরাসরি সেই ভবনে আঘাত হানার উদ্দেশ্যেই পাঠানো হয়েছিল।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রুশ হামলার জবাবে ‘উপযুক্ত ও দৃশ্যমান’ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্ভব হলে রাশিয়ার হামলার অনুরূপ জবাব দেওয়ার কথাও জানান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের পাল্টা হামলা কোন কোন এলাকায় চালানো হবে, তার ভূগোলও নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে চালানো ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি বড় অভিযানের সঙ্গে এসবিইউর সম্পৃক্ততা রয়েছে। রুশ সামরিক সক্ষমতা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করতে সংস্থাটি বিভিন্ন গোপন ও দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা করেছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে অধিকৃত ক্রিমিয়ার সংযোগকারী একটি সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনায়ও এসবিইউর নাম উঠে আসে। এ ছাড়া ২০২৫ সালে ‘স্পাইডারওয়েব’ নামে পরিচিত একটি ড্রোন অভিযানে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধাপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত রুশ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গোপন অভিযানেও এসবিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া এসব ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।
এমন সময়ে কিয়েভে এসবিইউ সদর দপ্তরে হামলা হলো, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির থাকলেও তাদের সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দুই দূতের রোববার কিয়েভ সফরের কথা রয়েছে। তাদের সফরের সময় ইউক্রেনে বিমান হামলা বন্ধ রাখতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন দূতদের মস্কো সফরের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগের মধ্যেই এসবিইউ সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তার দাবি, এই হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি মস্কোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
হামলার স্থানটি কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছে। এলাকাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সেন্ট সোফিয়া কমপ্লেক্সের একটি ভবনের জানালা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এসবিইউ সদর দপ্তরের বিপরীতে থাকা একটি জনপ্রিয় বেকারিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙা কাচে ভরে থাকা দোকানের ছবি প্রকাশ করেছেন।
রুশ বিমান ও ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভ টানা ১০ দিন ধরে আক্রান্ত হচ্ছে। একের পর এক হামলায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?