মেহেদী হাসান রাতুল ( সিলেট ),
স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দূর করে জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, এমপি।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কাজে র্যাব, ডিজিএফআই, এসবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা এবং খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয়ে সরকার নজরদারি করছে। গত এক মাসে দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিযোগ ও সেবার মান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বয়সসীমা, তথ্যের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ায় টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে হাম দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। চলতি মাসের শেষদিকে পুনরায় বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ নজর দিয়ে মূল ক্যাম্পেইনের আগেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত লেবার রুম নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া অবৈধ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাস হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতাসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।