মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের টঙ্গীতে হাজী মাজার বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বস্তির বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গী বাজার উড়ালসেতুর ওপর অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচিতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। পুলিশের আশ্বাসের পর তারা সড়ক থেকে সরে যান।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, হাজী মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের কারণে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। সেখানে নিয়মিত অভিযান চালানো হয় এবং বিভিন্ন সময় মাদকসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার পুলিশ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যৌথ উদ্যোগে বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মাদক কারবারিদের কয়েকটি আস্তানা এবং সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরে বস্তির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকশ বাসিন্দার একটি দল বস্তি এলাকা থেকে মিছিল বের করে টঙ্গী বাজার ও স্টেশন রোড হয়ে উড়ালসেতুর ওপর অবস্থান নেয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বহু বছর ধরে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। কয়েকজনের অপরাধের কারণে পুরো বস্তির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আওতায় আনা হলে নিম্নআয়ের অসংখ্য পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে।
তাদের দাবি, উচ্ছেদ কার্যক্রমের আগে বাসিন্দাদের জন্য অন্তত অস্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বস্তি থেকে উচ্ছেদ না করার দাবিও জানান তারা। একই সঙ্গে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিক্ষোভকারীরা।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বস্তিবাসীদের মধ্যে একটি ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তারা বিভ্রান্ত হয়ে বিক্ষোভে নামেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে।
ওসি জানান, সাধারণ বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হবে না। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধেই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে। এ আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।