মেহেরপুর প্রতিনিধি: ২৮-০৮-২৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধিনডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায়বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারিক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলেজে একটি উন্মুক্ত পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আহত সাংবাদিকরা।এ ঘটনায় গাংনী খানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
সাংবাদিক রাব্বি জানান, ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে যান। সেখানে গিয়ে তারা পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দিতে দেখতে পান।
বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ দুই শিক্ষক তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত সাংবাদিক তারিক বলেন, তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান, সকল পরীক্ষার্থী বই দেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই শিক্ষক তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় তাদের ভিডিও ধারণ করা দুটি মোবাইল ফোন এবং নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদেরকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে আসেন দুই সাংবাদিক।
এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা, আটকে রাখা এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় এসে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, হামলার কারণ কী এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নেওয়া হয়েছে কি না, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।