আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪)-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো অপরাধ তদন্ত, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করতে হবে।
সংসদে উপস্থাপিত অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি উল্লেখ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ জন্য পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তবে পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নৈতিক, শারীরিক ও একাডেমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে এবং সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে সেগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় পুলিশে নিয়োগের অভিযোগের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তদন্তে বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হলে এর ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।