শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

উচ্ছেদের পর আবারও দখল, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: একবার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েক বছর না যেতেই আবারও দখলের চিত্র দেখা দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালসংলগ্ন সরকারি জায়গায়। ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের পশ্চিম পাশে নদীর তীরবর্তী জায়গাটিতে ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে […]

উচ্ছেদের পর আবারও দখল, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

একবার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েক বছর না যেতেই আবারও দখলের চিত্র দেখা দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালসংলগ্ন সরকারি জায়গায়। ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের পশ্চিম পাশে নদীর তীরবর্তী জায়গাটিতে ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। উচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন জায়গাটি খোলা ছিল। নদীর পাড়ের ওই উন্মুক্ত স্থানটি পরে শহরবাসীর জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিকেল ও সন্ধ্যায় অনেকে সেখানে গিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতেন।

তবে সম্প্রতি সেই উন্মুক্ত জায়গাতেই আবার স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন। সরকারি জায়গায় নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা কীভাবে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল—এ প্রশ্নও উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন জায়গাটির কিছু অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তবে মূল অংশ বিআইডব্লিউটিএর অধীন। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সরেজমিনের বাস্তবতা হলো, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ফলে সরকারি সম্পত্তিতে দখলের চেষ্টা শুরু হওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি জায়গা ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলমুক্ত করার পর সেখানে পুনরায় কীভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো? নির্মাণকাজের জন্য কোনো বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কোন কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দিয়েছে—তা স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

একবার উচ্ছেদ করা সরকারি জায়গায় আবারও দখল শুরু হওয়ার ঘটনা সরকারি সম্পত্তি রক্ষার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ দখল হয়ে যাওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার চেয়ে দখলের শুরুতেই তা প্রতিহত করা অধিক কার্যকর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মুন্সীগঞ্জ শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীর তীরবর্তী এই জায়গাটি শুধু সরকারি সম্পত্তি নয়, এটি শহরের মানুষের জন্যও একটি উন্মুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তাই জায়গাটি ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব শুধু দখল হওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো সরকারি জায়গায় দখলের চেষ্টা বা অবৈধ নির্মাণ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ।

এ অবস্থায় দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ, নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং স্থাপনা নির্মাণের কোনো বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে যদি কোনো অনুমোদন থেকে থাকে, সেটি কোন কর্তৃপক্ষ দিয়েছে এবং তা সরকারি বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না, তাও যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি সম্পত্তি পুনরায় দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে এর পেছনে কারা রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করাই এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।