নাটোরের গুরুদাসপুরে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির ১৯ শতাংশ পৈতৃক ভিটা দখলের চেষ্টা ও সেখানে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর চার ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. ওসমান আলী।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ওসমান আলী। তিনি ওই গ্রামের মৃত জবান মোল্লার ছেলে। অভিযুক্ত চারজন হলেন জামাল, জিল্লুর, খালেক ও জহির উদ্দিন। তাঁরা একই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে ওসমান আলী বলেন, ২০১২ সালে তাঁর চার ভাতিজা একটি নকল দলিল তৈরি করে তাঁর ১৯ শতাংশ ভিটাবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তিনি নাটোরের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। মামলাটি এখনো চলমান। মামলা নম্বর ৩০/২০১২ অঃ প্রঃ।
ওসমান আলীর অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত ২৪ জুন চার ভাতিজা তাঁর জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করেন এবং সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরদিন ২৫ জুন তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ করেন।
ওসমান আলী আরও বলেন, জমি নিয়ে চলমান মামলায় ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ তাঁর পক্ষে রায় দেন। এরপরও প্রভাব খাটিয়ে তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১ জুলাই ৪৩০ নম্বর স্মারকে নাটোর পিটিশন মোকদ্দমা নম্বর ২৮৭পি/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তফসিল অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর মৌজার ২৭১ নম্বর খতিয়ানের ২৯৭৮ দাগের ২৯ শতাংশ জমির পশ্চিমাংশের ১৯ শতাংশ ভিটা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি দুই দিন হলো থানায় যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জেনে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’