জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকারের ক্ষতি হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো দেশ ও দেশের জনগণ।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৫ আগস্ট বিরোধী দলগুলোর কাছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন। সরকারের এই আহ্বানকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে বিরোধী দলের পরিকল্পনা নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই, কারণ প্রায় তিন মাস আগেই তা সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিলেন। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সদস্যও ছিলেন। তারা দুটি বৈঠকে অংশ নিয়ে সংকটের কারণ ও সমাধান নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী ওই কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিরোধী দলের দেওয়া সুপারিশগুলো ছিল বাস্তবভিত্তিক। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, স্থাপিত এসপিএম দ্রুত চালু করা এবং ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব ছিল।
এ ছাড়া কার্যকর নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার সুপারিশও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখন মূল প্রশ্ন নতুন পরিকল্পনা আছে কি না, তা নয়। বরং ২১ মে সরকারের হাতে দেওয়া ১০ দফা সুপারিশের কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোন সুপারিশের কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনও কাগজে পড়ে আছে—সেটিই জনগণের সামনে পরিষ্কার করা দরকার।
তিনি আরও জানান, গত ১৪ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠির একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে।
‘আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চান না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে এর প্রভাব শুধু সরকারের ওপর পড়বে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতিকেও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে সেই মা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যিনি সকালে রান্নার চুলা জ্বালাতে পারেন না। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন, সময়মতো পণ্য উৎপাদন বা রপ্তানি করতে না পারলে উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়েন। এর সামগ্রিক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সমালোচনা থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর সমাধান দেওয়ার প্রতিযোগিতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কে বেশি স্বচ্ছ এবং জনগণের কাছে বেশি জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের দেওয়া পরিকল্পনা সরকারের কাছেই রয়েছে এবং তা আবারও সামনে তুলে ধরা হলো। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, বাস্তবায়ন শুরু করবে নাকি নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকবে।
তিনি বলেন, ৯০ দিন পর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে হিসাব চাওয়া হবে। এটি সরকারকে বিব্রত করার জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের স্বার্থে। একই সঙ্গে সরকার যদি দেশের স্বার্থে কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেয়, তাহলে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।