শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

শেকৃবির স্মার্ট ড্রায়ারে সংরক্ষণ ও মূল্য সংযোজনে বদলাতে পারে কৃষি অর্থনীতি

শেকৃবি প্রতিনিধি মৌসুমি ফলন, মাছ ও মৎস্যপণ্যের বড় একটি অংশ প্রতিবছর সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। বিশেষ করে রোদ-বৃষ্টিনির্ভর প্রচলিত শুকানোর পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগা, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের লোকসান গুনতে হয়। এই বাস্তবতায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি ও মৎস্যপণ্য শুকানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩১

শেকৃবি প্রতিনিধি

মৌসুমি ফলন, মাছ ও মৎস্যপণ্যের বড় একটি অংশ প্রতিবছর সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। বিশেষ করে রোদ-বৃষ্টিনির্ভর প্রচলিত শুকানোর পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগা, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের লোকসান গুনতে হয়। এই বাস্তবতায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি ও মৎস্যপণ্য শুকানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের উদ্ভাবিত IoT-Based SAU Smart Dryer-এ মাছ, মাংস, সি-ফুড, আম, কাঁঠাল, কলা, টমেটো, মরিচ, শাকসবজিসহ প্রায় ২৫০ ধরনের পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। অটোমেশন, সেন্সর, IoT, সৌরশক্তি, ব্যাটারি ও ইনফ্রারেড হিটারের সমন্বয়ে তৈরি এই ড্রায়ারে শুধু পণ্য শুকানো নয়, কাঁচামালকে পাউডার, চা, জার্কি, শুকনো স্লাইসসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্যে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে।

প্রযুক্তিটির গবেষণা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা। অটোমেশন ব্যবস্থায় সহযোগিতা করেছে SAU-RIC।

আবহাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে

বাংলাদেশে মাছ ও শুঁটকি শুকানোর প্রচলিত পদ্ধতিতে খোলা আকাশের নিচে কয়েক দিন ধরে রোদ ও বাতাসের সাহায্য নেওয়া হয়। এতে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামায় শুকানোর সময় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ধুলাবালি, মাছি ও পোকামাকড়ের সংস্পর্শে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

SAU Smart Dryer-এ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দিন-রাত শুকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাইরের আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। উদ্ভাবন-সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় শুকানোর সময় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মোবাইলেই নিয়ন্ত্রণ

ড্রায়ারের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেও ড্রায়ারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিবেশ বজায় রাখতে অটোমেশন ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।

ড্রায়ারে থাকা এক্সহস্ট ফ্যান পণ্য থেকে নির্গত আর্দ্রতা বাইরে বের করে দেয়। রোটেটিং ফ্যান ভেতরের তাপ সমভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। ফলে বিভিন্ন র‌্যাকে থাকা পণ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে সমান শুকানোর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

সৌরশক্তি ও ব্যাটারির সমন্বয়

ড্রায়ারটিতে সৌরশক্তি, ব্যাটারি ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুতের সমন্বয়ে হাইব্রিড ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করা যায় এবং অতিরিক্ত শক্তি ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব। রাতে সেই শক্তি ব্যবহার করে ইনফ্রারেড হিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ সরবরাহ করা যায়।

ফলে শুধু সূর্যের আলো থাকলেই ড্রায়ার চালানো যাবে—এমন সীমাবদ্ধতা নেই। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৭–৮ লাখ টাকায় এক টনের ড্রায়ার

বিভিন্ন সক্ষমতার ড্রায়ার তৈরির সুযোগ রয়েছে। এক টন ধারণক্ষমতার একটি ড্রায়ারের আকার প্রায় ২০ ফুট × ১২ ফুট × ৮ ফুট। ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কেজি ধারণক্ষমতার ইউনিটও স্থাপন করা সম্ভব।

উদ্ভাবক ড. মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, এক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ড্রায়ারের ইন্সটলেশন কস্ট প্রায় ৭–৮ লাখ টাকা। ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হলে ১–২ মাসের মধ্যেই বিনিয়োগের খরচ তুলে আনা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রকৃত ব্যয় ড্রায়ারের নকশা, উপকরণ, অটোমেশন, সৌরব্যবস্থা ও স্থাপনার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। একইভাবে বিনিয়োগ ফেরতের সময় পণ্য, উৎপাদনক্ষমতা, কাঁচামালের দাম, বাজারদর ও পরিচালন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে।

কাঁচামাল হবে মূল্য সংযোজিত পণ্য

প্রযুক্তিটির বড় সম্ভাবনা শুধু কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নয়, বরং কাঁচামালকে উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যে রূপান্তরে।

ইতোমধ্যে আমের পাউডার, বিটরুট পাউডার, রোজেলা চা, লেমন চা, কাঁঠালের পাউডার, বিফ জার্কি, ফিশ জার্কি, শুকনো আনারস, কলার পাউডার, করলার পাউডার, কাঁচা মরিচ ও ধনিয়াপাতার পাউডারসহ শতাধিক পণ্য তৈরির কথা জানানো হয়েছে।

মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদিত আম, কাঁঠাল, কলা, টমেটো, মরিচ ও বিভিন্ন সবজি শুকিয়ে সংরক্ষণ করা গেলে সেগুলো সারা বছর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মৌসুমি উদ্বৃত্ত পণ্য নষ্ট হওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

কৃষকের আয় ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ

ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, “বাংলাদেশে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; উৎপাদিত কৃষি ও মৎস্যপণ্য সংগ্রহের পর কীভাবে নিরাপদে সংরক্ষণ, শুকানো ও মূল্য সংযোজন করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। SAU Smart Dryer সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান।”

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ড্রায়ার তৈরি করা নয়; বরং কৃষক ও মৎস্যজীবীদের উৎপাদিত কাঁচামালকে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করে একটি টেকসই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।”

কোনো এলাকার আম, কাঁঠাল, কলা, মাছ, মরিচ কিংবা শাকসবজিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং করা গেলে কৃষক কাঁচা পণ্যের তুলনায় বেশি মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

মাঠপর্যায়ে স্থাপন ও পরীক্ষা

উদ্ভাবক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (BFDC) ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি স্থাপন ও পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রযুক্তিটি স্থাপন করে শুঁটকি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে এবং রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তিটি মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা গেলে কৃষিপণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট লস কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটির প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ধারণে কাঁচামালের দাম, উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ, শ্রম, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজারমূল্যের বিস্তারিত তুলনামূলক হিসাব প্রয়োজন।

বদলাতে পারে কৃষি অর্থনীতি

সৌরশক্তি, ব্যাটারি, ইনফ্রারেড হিটার, সেন্সর, অটোমেশন ও IoT প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি SAU Smart Dryer কেবল একটি শুকানোর যন্ত্র নয়; এটি কৃষি ও মৎস্যপণ্যের সংরক্ষণ, মূল্য সংযোজন ও বাজার সম্প্রসারণের একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম।

মৌসুমি উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্যকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য ও উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্যে রূপান্তর করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন শিল্প ও উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে। যথাযথ মাননিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় প্রযুক্তিটির বিস্তার ঘটাতে পারলে এটি দেশের পোস্ট-হারভেস্ট লস কমানোর পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কাঠামোতেও নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।