মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
গ্যাসের সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবস্থায়। জেলার বিভিন্ন রুটে সিএনজিচালিত জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে চালকদের কেউ কেউ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে শুরু করে টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং ও গজারিয়া—ছয় উপজেলার বিভিন্ন সড়কে স্থানীয় যাতায়াতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বেশি। উপজেলা সদর, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এসব যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় কোনো কোনো চালককে বিকল্প হিসেবে তেল ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জ্বালানি খরচ বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি।
সিএনজি চালক রায়হান হোসেন বলেন, “গ্যাসের জন্য স্টেশনে গিয়ে অনেক সময় বসে থাকতে হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় এখন তেল দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তেলের খরচ বেশি হওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকছে না।”
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের কারণে বাড়তি খরচের চাপ সরাসরি তাঁদের ওপর দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো রুটে আগের তুলনায় একবারে ২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে বলে তাঁরা জানান। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মাসিক খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
মুক্তারপুর হয়ে ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, “এই পথে প্রতিদিন যাতায়াত করি। আগে যে ভাড়া ছিল, এখন তার সঙ্গে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিনের যাতায়াতে কয়েক টাকা করে বাড়লেও মাস শেষে সেটি বড় অঙ্ক হয়ে যায়।”
কলেজ শিক্ষার্থী রাজন বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই সিএনজিতে যাতায়াত করতে হয়। হঠাৎ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভাড়া সহনীয় রাখা দরকার।”
জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ভাড়া বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের পাশাপাশি রোগী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন যাঁদের এক উপজেলা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হয়, তাঁদেরও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।
যাত্রীদের ভাষ্য, জ্বালানি ব্যয় সত্যিই বেড়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবহন মালিক ও চালকদের মধ্যে আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে হঠাৎ বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের বিরোধও তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, শুধু ভাড়া বাড়ানোর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। গ্যাস সরবরাহে সংকটের কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জরুরি। দীর্ঘদিন জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে এর প্রভাব স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও আরও বাড়তে পারে।
মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলার বিভিন্ন রুটে সিএনজি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন যাত্রীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি যাত্রীদের সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাড়া নির্ধারণ করা দরকার।