আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কোনোভাবেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন হিসেবে দেখছেন না জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে বিএনপি ও দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা, মন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নূরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিরোধীদলীয় জোট থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়।
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও সেভাবেই হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বাক্ষর করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন বলেও জানান নূরুল ইসলাম।
‘সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানে একটি কমা পরিবর্তন করাও সংস্কারের অংশ। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর সংবিধান নিশ্চিত করতে সবার মতামত নিয়ে কাজ করা হবে।
নূরুল ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সাংবিধানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠাই এর মূল লক্ষ্য।